ভোলার মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ বাঁধের সিসি ব্লকে (সিমেন্ট কনক্রিট ব্লক) ধস দেখা দিয়েছে। এতে লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ধসের কারণে ঢাকা-ইলিশা নৌপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হুমকিতে পড়েছে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহররক্ষা বাঁধ এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোতের কারণে পূর্ব ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার সিসি ব্লকে ধস নামতে শুরু করে। একের পর এক ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভাঙন আতঙ্কে নদীপারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট ও ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে দুটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন ও রাজীব বলেন, প্রতিদিন বাঁধের সিসি ব্লকগুলো নদীতে ধসে পড়ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের বাকি অংশও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঁধটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। ফলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আর কোনো খোঁজ নেয়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি সময়মতো সংস্কার করা হতো, তবে হয়তো এই বড় ধস এড়ানো সম্ভব হতো।
লঞ্চঘাট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাকসুদ ও সাঈদ জানান, ধসের কারণে ঢাকা-ইলিশা রুটের বড় লঞ্চঘাটটি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা। ঘর হারানোর ভয়ে অনেকেই দোকান ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন। নতুন করে অন্য কোথাও দোকান নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সাজিকান্দি থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের জোরখাল পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে সাড়ে ৩ কিলোমিটার অংশে সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আরিফ জানান, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে ভাঙনকবলিত লঞ্চঘাটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ওই রুটের আরেকটি ঘাট সচল রয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বিশেষ বস্তা) ফেলার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।