দেশের সাতটি জেলায় অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যাকবলিত বিস্তীর্ণ এলাকার ৫৬টি উপজেলা এবং ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষদের সহায়তায় ইতিমধ্যে ৭৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বিপন্ন ২৯৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও সরকারি উদ্যোগের তথ্য জানানো হয়।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের চলমান বন্যায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত রাঙামাটিতে তিনজন, পার্বত্য বান্দরবানে সাতজন, কক্সবাজারে ৩২ জন (যার মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ১৯ জন এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১৩ জন), চট্টগ্রামে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে অন্তত ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ জন ও রোহিঙ্গা ৫ জন) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, পশুখাদ্য (গোখাদ্য), ঢেউটিন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য গৃহনির্মাণ অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ত্রাণের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতিমধ্যে বিতরণ করা সম্পন্ন হয়েছে।
ত্রাণ বরাদ্দের বিবরণে দেখা গেছে, কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে শিশুখাদ্য ও পশুখাদ্য বরাদ্দ করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম জেলায় ৭৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিনসহ শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও পশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যাকবলিতদের জন্য ২০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং শিশুখাদ্য ও পশুখাদ্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও এই পার্বত্য জেলায় অতিরিক্ত জরুরি আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাকি জেলাগুলো যেমন— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও সরকারি সাহায্য জোরদার করা হয়েছে। এসব জেলাতেও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, ঢেউটিন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর নতুন করে তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গৃহনির্মাণ অনুদান পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ ও বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।