চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনের (জ্বালানি তেল পাম্প) সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি ‘জোন’ পরিবহনের ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে নোয়াখালী অভিমুখে যাওয়ার সময় জোনপরিবহনের যাত্রীবাহী দ্রুতগামী বাসটি ছোট কুমিরা এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও চিৎকার শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের (দমকল বাহিনী) একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের ভেতর আটকে পড়া আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশেক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের মরদেহ ময়না-তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে (লাশঘর) পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এসআই মো. আশেক আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ২ নম্বর চিকিৎসাকক্ষে (ওয়ার্ড) স্থানান্তরের (রেফার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আহতরা হলেন— রওশন আক্তার (৩৮), মহিউদ্দিন (৩৩), মোহাম্মদ মান্নান (৩০), সোনিয়া আক্তার (২৫), অর্পিতা শাহ (২০) ও আরিফ মো. ইউসুফ (৫১)। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি বাসের সাধারণ আঘাতপ্রাপ্ত অন্য যাত্রীদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কের এই স্থানটিতে প্রায়শই তীব্র গতির কারণে চালকেরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আজকের ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রাথমিকভাবে বাসের অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতাকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার অভিযান দ্রুত সম্পন্ন করায় মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হতে পারেনি।
দুর্ঘটনার পর সীতাকুণ্ডের এই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রেকার (গাড়ি সরানোর বিশেষ যান) দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পুলিশ জানায়, বাসটির অতিরিক্ত গতি নাকি যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে