Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে কারিনা কায়সারকে

Roksana
27 August 2026, 10:29 AM পড়তে ১ মিনিট
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে কারিনা কায়সারকে

যকৃতের জটিলতা নিয়ে লাইফ সাপোর্টে (জীবন রক্ষাকারী কৃত্রিম ব্যবস্থা) রয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ বিমানে করে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সঠিক সময়ে সুপরামর্শ না পাওয়ার বিষয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রীর পরিবার।


তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ এবং প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিনোদন অঙ্গনে। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই শিল্পীকে বাঁচাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। সোমবার (১১ মে) তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার কথা রয়েছে।

কারিনার বাবা কায়সার হামিদ গণমাধ্যমকে তার মেয়ের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (আকাশপথে চিকিৎসাসেবা যুক্ত বিশেষ বিমান) সোমবার দেশেই এসে পৌঁছাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে ওই দিনই তাকে নিয়ে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হবে পরিবার।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে কায়সার হামিদ জানান, বর্তমানে কারিনার শারীরিক অবস্থা স্থানান্তরের জন্য ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে। এ কারণেই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সুবিধাসহ বিশেষ বিমানে করে ভারতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, কারিনার রক্তচাপ এখন স্বাভাবিক মাত্রায় আছে এবং তার কিডনি (বৃক্ক) ও হৃদযন্ত্রও ঠিকভাবে কাজ করছে। তবে মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে তার যকৃৎ বা লিভারে। তীব্র জন্ডিস (কামলা রোগ) এবং হেপাটাইটিসের (যকৃতের প্রদাহ) কারণে তার লিভার পুরোপুরি কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

মেয়ের এই সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতি ও সীমাবদ্ধতাকেই দায়ী করছেন কারিনার বাবা। রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারের চিকিৎসাসেবা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা যকৃৎ প্রতিস্থাপনের পূর্ণাঙ্গ কোনো ব্যবস্থা যে নেই, সে কথা চিকিৎসকরা তাদের আগে থেকে কিছুই জানাননি। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা না দিয়ে চিকিৎসকরা কেবল জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আক্ষেপের সুরে এই অসহায় পিতা বলেন, “শুরুতেই যদি আমরা সঠিক পরামর্শ পেতাম, তাহলে চিকিৎসা ব্যয় ও শারীরিক জটিলতা— দুটোই অনেক কম হতো। এখন পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালের বিশাল বিল এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। চিকিৎসকরা যদি আগেই জানাতেন যে বাংলাদেশে এই রোগের চূড়ান্ত চিকিৎসা নেই, তাহলে হয়তো আমার মেয়েকে সুস্থ থাকা অবস্থাতেই সাধারণ ফ্লাইটের উচ্চ শ্রেণির আসনে (বিজনেস ক্লাস) করে ভারতে নিয়ে যেতে পারতাম।”

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যকৃৎ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন কারিনা। গত শুক্রবার তার শরীরে প্রচণ্ড জ্বর আসে এবং এর পাশাপাশি তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্জাল আধেয় নির্মাতা (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) হিসেবে প্রথম জনপ্রিয়তা পান কারিনা কায়সার। সাবলীল অভিনয় ও আকর্ষণীয় উপস্থিতির কারণে খুব দ্রুতই তিনি মূলধারার অভিনয়ে নিয়মিত হয়ে ওঠেন। শুধু অভিনয় নয়, একজন মেধাবী চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি ইদানীং বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছিলেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘ছত্রিশ-চব্বিশ-ছত্রিশ’ নামক আলোচিত নাটক। তরুণ এই শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় এখন প্রার্থনা করছেন তার ভক্ত ও সহকর্মীরা।


দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কারিনার বাবার এই আক্ষেপ কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নয়, বরং এটি পুরো স্বাস্থ্য খাতের এক রূঢ় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যকৃৎ প্রতিস্থাপনের মতো অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনদায়ী চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা আজও দেশে গড়ে না ওঠা অত্যন্ত হতাশাজনক। এর চেয়েও বড় শঙ্কার বিষয় হলো, সঠিক সময়ে রোগীকে সঠিক তথ্য না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা চিকিৎসকদের পেশাদারি ও নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে— অবকাঠামোগত উন্নয়নের ডামাডোলের মাঝে দেশের চিকিৎসাসেবা কি আদৌ সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পেরেছে? উন্নত চিকিৎসার খোঁজে আর কতকাল এ দেশের মানুষকে সহায় সম্বল বিক্রি করে ভিনদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বিনোদন

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে কারিনা কায়সারকে

R
Roksana | 11 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার