Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চায় না বাংলা সিনেমার উন্নতি হোক’

Roksana
29 August 2026, 01:52 AM পড়তে ১ মিনিট
‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চায় না বাংলা সিনেমার উন্নতি হোক’

দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়ের অভিনয় জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন তিনি। তবে নিজের নতুন চলচ্চিত্রকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও খণ্ডিত নেতিবাচক প্রচারণায় এবার প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢালিউডের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। তিনি মনে করেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন যুগের যাত্রাকে ভয় পাচ্ছে এবং এই শিল্পকে পুরোনো বৃত্তে আটকে রাখার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি অত্যাধুনিক ছায়াছবি প্রদর্শন কেন্দ্রে (স্টার সিনেপ্লেক্স) নিজের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’ নামক চলচ্চিত্রের প্রচারণায় উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খান। মুক্তির প্রথম সপ্তাহ পার হওয়ার পর সাধারণ দর্শকদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানতে ও তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সেখানে যান তিনি। তবে প্রচারণার উৎসবমুখর পরিবেশের চেয়ে এদিন সাংবাদিকদের সামনে তার কণ্ঠে বেশি ধ্বনিত হয়েছে ক্ষোভ, হতাশা আর চলচ্চিত্র জগতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কথা। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার এই নতুন কাজটিকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

যেকোনো শিল্পকর্ম বা চলচ্চিত্র নিয়ে দর্শকের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন এই তারকা। কিন্তু তার মূল আপত্তি হলো প্রচারণার ধরন নিয়ে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, "একটি চলচ্চিত্র নিয়ে ভালো এবং মন্দ—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই আসতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার এই নতুন ছবিটির ক্ষেত্রে কেবল নেতিবাচক পর্যালোচনাগুলোকেই (রিভিউ) উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেটে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আমার কাছে অত্যন্ত রহস্যজনক মনে হয়েছে।" এই বিদ্বেষ কার প্রতি—তার নিজের প্রতি, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নাকি সামগ্রিকভাবে পুরো বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি, সাংবাদিকদের সামনে সেই কঠিন প্রশ্নও ছুড়ে দেন তিনি।

দীর্ঘ সাতাশ বছর ধরে দেশের চলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করা এই অভিনেতা মনে করেন, দেশের সিনেমা যখন তার পুরোনো জীর্ণ দশা কাটিয়ে নতুন ধরনের গল্প, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক নির্মাণশৈলী নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই পেছন থেকে টেনে ধরার এই নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বলেন, "কিছু স্বার্থান্বেষী মহল একেবারেই চায় না বাংলা চলচ্চিত্রের কোনো উন্নতি হোক। তারা চায়, দর্শক কেবল সেই পুরোনো ধাঁচের গল্প আর চেনা ছকের মারপিটের (অ্যাকশন) দৃশ্যেই আটকে থাকুক। নতুনত্ব তাদের কাছে ভয়ের কারণ।"

নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে এমন অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করে এসেছেন বলে জানান শাকিব খান। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো পেশায় বা শিল্পের শীর্ষে পৌঁছানো যতটা কঠিন, সেই শীর্ষস্থান বছরের পর বছর ধরে রাখা তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি চ্যালেঞ্জের কাজ। ইন্টারনেটভিত্তিক কিছু ভিডিও নির্মাতা এবং বিষয়বস্তু প্রস্তুতকারকদের (যাদের সচরাচর ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলা হয়) প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাময়িক দর্শন সংখ্যা (ভিউ) বাড়ানো বা সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় তারা এই ধরনের খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, যা শিল্পের জন্য চরম ক্ষতিকর।

তবে শত নেতিবাচকতার মাঝেও আশার আলো দেখছেন এই অভিনেতা। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দিন শেষে সাধারণ দর্শকই আসল বিচারক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণা যে সাধারণ দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে পারেনি, তা প্রমাণ করে সিনেমা হলের চিত্র। শাকিব খান জানান, মুক্তির দ্বিতীয় দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দিন শেষে সত্য এবং ভালো কাজের জয় সব সময়ই হয়। দর্শকদের এই ভালোবাসাই তাকে বারবার নতুন উদ্যমে কাজ করার সাহস জোগায়।


শাকিব খানের এই ক্ষোভ কেবল একজন শীর্ষ অভিনেতার ব্যক্তিগত আক্ষেপ নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক বিনোদন জগতের এক রূঢ় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির এই অবাধ যুগে গঠনমূলক সমালোচনার চেয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় নেতিবাচকতাকে পুঁজি করার প্রবণতা অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যদি সত্যিই আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যেতে হয়, তবে এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিল্পের বিকাশ ঘটে সুস্থ প্রতিযোগিতায়, ধ্বংসাত্মক সমালোচনায় নয়। দর্শক হিসেবে আমাদেরও উচিত অন্যের তৈরি করা দুই মিনিটের খণ্ডিত ভিডিও দেখে প্রভাবিত না হয়ে, সরাসরি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে টিকিট কেটে দেশীয় শিল্পের প্রকৃত মূল্যায়ন করা।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বিনোদন

‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চায় না বাংলা সিনেমার উন্নতি হোক’

R
Roksana | 05 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার