জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো বিনোদন জগত। তার অকাল প্রয়াণে সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে প্রিয় এই শিল্পীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন।
ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কারিনা কায়সার। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। বাবার সেই আবেগঘন ঘোষণার পরপরই প্রিয় শিল্পীর প্রয়াণের সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কারিনার মৃত্যুতে শোকের মাতম এখন শোবিজ অঙ্গনের প্রতিটি স্তরে।
তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কারিনার ব্যক্তিত্বে এক বিশেষ ধরনের আলো ছিল। তার হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সবাইকে মুহূর্তেই মুগ্ধ করত। অকালেই সেই আলোর নিভে যাওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। ফারিণ তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি কারিনার সঙ্গে কাটানো দারুণ সব মুহূর্তের কথা স্মরণ করেছেন। নিজের পাতায় স্মৃতিবিজড়িত একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, কারিনার সাথে শেষ কথোপকথন আজও তার কানে বাজছে। তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সেই স্মৃতিগুলো এখন কেবলই হাহাকার জাগায়।
অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান কারিনার সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগের একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনার কথা জানান। মৃত্যুর মাত্র এক মাস আগে কারিনা তার কাজের প্রশংসা করে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তাটিই এখন কারিনার কণ্ঠের শেষ স্মৃতি হিসেবে সাদিয়াকে কাঁদাচ্ছে। তিনি বলেন, এমন প্রাণবন্ত একজন মানুষ এত দ্রুত চলে যাবেন, তা কল্পনাও করা যায় না।
উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী এক আবেগঘন পোস্টে কারিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, পৃথিবীটা এমন অকাল বেদনায় ভরা। হয়তো কোনো এক অন্য জগতে কারিনার সঙ্গে আবারও দেখা হবে, যেখানে আর কোনো বিচ্ছেদ বা কষ্ট থাকবে না। এছাড়া কনটেন্ট জগতের পরিচিত মুখ শামস আফরোজ চৌধুরীও কারিনার মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন। নিজের দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রিয় সহকর্মীর সৃজনশীলতার কথা তুলে ধরেন।
কারিনার বাবা কায়সার হামিদ সবার কাছে তার মেয়ের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা চেয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, কারিনার ছোটখাটো ভুলত্রুটি যেন সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। পরিবারের এই শোকের মুহূর্তে দেশের বিনোদন জগতের মানুষগুলো এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন। সবার পোস্ট আর মন্তব্যে ফুটে উঠছে কারিনার প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ।
একজন তরুণী শিল্পীর অকাল প্রয়াণ আমাদের পুনরায় মনে করিয়ে দিল জীবনের অনিশ্চয়তা। কারিনা কেবল ক্যামেরার সামনের মানুষ ছিলেন না, ছিলেন ডিজিটাল মাধ্যমের এক নতুন ধারার কারিগর। তার চলে যাওয়া বিনোদন জগতে যে শূন্যতা তৈরি করল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমরা আশা করি, কারিনার কাজ ও তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে থেকে যাবে। এই শোক যেন আমাদের একে অপরের প্রতি আরও সংবেদনশীল ও মানবিক হতে শেখায়।