কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুঠিপাড়া নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের (ভারী পণ্য বহনের বিশেষ যান্ত্রিক যান) মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যেন কোনোভাবেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। কুষ্টিয়ার খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও একটি বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেল ৩টি তাজা প্রাণ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুঠিপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের জুনাইয়েদ হোসেনের ছেলে নাবিল হোসেন (২৮)। ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া অন্য এক পুরুষ এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যাওয়া অপর এক নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে (মহাসড়ক) পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাস কুঠিপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে অর্থাৎ রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল দ্রুতগতির একটি বালুভর্তি ডাম্প ট্রাক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সরাসরি সামনে থাকা যাত্রীবাহী বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে বাসের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়।
বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার কাজে হাত লাগান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে (দমকল বাহিনী) খবর দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক আরিফুল হক জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রায় ২০ জন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত ১১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানান্তর করা রোগীদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক আরও জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের লাশ ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে (লাশ রাখার স্থান) রাখা হয়েছে এবং এক নারী হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাসেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জন মারা গেছেন। সড়ক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকটির চালক পলাতক রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে এবং নিহত অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা এখন আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও বেপরোয়া ড্রাইভিং বা চালকদের অসতর্কতার কারণে অকালে ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান জীবন। খোকসার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে মহাসড়কে ভারী যান চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কতটা জরুরি। বিশেষ করে বালুবাহী ডাম্প ট্রাকগুলোর অনিয়ন্ত্রিত গতি রুখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চালকদের সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই কেবল আমাদের সড়কগুলোকে নিরাপদ করে তুলতে পারে।