কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের চেষ্টার সময় দুই বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার রাতে ঘটা এই ঘটনার পর আটকদের ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তের কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে উন্নত জীবনের খোঁজে কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রবেশের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে এবার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঝাউকুটি সীমান্ত এলাকায় এমন এক প্রচেষ্টায় আটক হয়েছেন দুই যুবক। আটককৃতরা হলেন—নাগেশ্বরী উপজেলার অষ্টমীর চর এলাকার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা সোলাইমান হোসেন এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বলদিয়া কুমারটারী গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহাগ মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত গভীর রাতে ওই দুই যুবক উত্তর ঝাউকুটি সীমান্তের ১০৩৭ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা খুঁটির (পিলার) পাশ দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার টাকিমারী এলাকায় প্রবেশ করেন। সীমানা অতিক্রমের কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের নজরে পড়েন তারা। পরে ভারতীয় জনতা ও বিএসএফ সদস্যদের যৌথ তৎপরতায় তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই যুবকরা অসতর্কভাবে বা দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পার হয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক গণমাধ্যমকে জানান, “আটকের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের (সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর জরুরি আলোচনা) জন্য আহ্বান জানিয়েছি। আশা করছি, আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সীমানা অতিক্রমের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং আইন মেনে চলতে প্রচারণাও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তে প্রায়ই এ ধরনের আটকের ঘটনা ঘটছে, যা মূলত অসচেতনতা কিংবা দারিদ্র্যজনিত কারণে কর্মসংস্থানের সন্ধানে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার ফলাফল। তবে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম শুধু জীবনের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া বিজিবি নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষকে সীমান্ত আইন সম্পর্কে আরও সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।