খুলনার খালিশপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতর এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে; পুলিশ ঘাতকদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে।
খুলনার শিল্পাঞ্চল খালিশপুরের নয়াবাটি এলাকায় শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ দোকানের ভেতর দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সোনা মিয়া সরদার (৩৮) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী। রাত ১২টার দিকে যখন তিনি দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই অতর্কিত হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, রাত ১২টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র যুবক সোনা মিয়ার দোকানের সামনে এসে থামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। ঘাতকদের ধারালো অস্ত্রের একটি আঘাত তার পেটে বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে সোনা মিয়া দোকান থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে কিছু দূর যাওয়ার পরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়েন। কাজ শেষে ঘাতকরা মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের (মৃতদেহের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার পরীক্ষা) জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত সোনা মিয়া এলাকায় একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কী কারণে তাকে এভাবে জীবন দিতে হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা বেড়েছে, যার বলি হলেন এই নিরীহ ব্যবসায়ী।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল অপরাধীদের ধরতে অভিযানে নেমেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ (নজরদারি ক্যামেরার চিত্র) সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অতি দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
একটি সাধারণ মুদি দোকানে ঢুকে প্রকাশ্য রাজপথে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সমাজে আইনশৃঙ্খলার অবনতিরই ইঙ্গিত দেয়। মোটরসাইকেলে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। শুধু তদন্ত বা মামলা নয়, বরং দ্রুততম সময়ে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে এই পরিবারের জন্য একমাত্র বিচার। অপরাধীরা যদি আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, তবে এ ধরনের নৃশংসতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।