Logo
ট্রেন্ডিং: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক  এক মাস বাড়লো ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ফ্যাসিস্টদের আমরা আইনের আওতায় আনবো: রেজাউল করিম মল্লিক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: স্থানান্তরকালে রোগীর মৃত্যু, আহত পাঁচ

Roksana
29 August 2026, 02:02 AM পড়তে ১ মিনিট
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: স্থানান্তরকালে রোগীর মৃত্যু, আহত পাঁচ

খুলনার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় লাগা এই আগুনের ধোঁয়া ও আতঙ্কে হুড়োহুড়ির সময় নার্স ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

 বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগলে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ছুটে আসে এবং পরবর্তীতে আরও সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন লাগার পর তীব্র উত্তাপে ওই কক্ষের কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং বাতানুকুল যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে দেয়ালের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন ১৫ জন রোগীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সময় চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ধোঁয়ার কারণে দমবন্ধ পরিস্থিতিতে রোগীদের স্থানান্তরের সময় নাসরিন নাহার (৩০) নামে এক রোগী প্রাণ হারান। খুলনার কয়রা এলাকার বাসিন্দা নাসরিনকে গত মঙ্গলবারই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ওয়ার্ড বয় জানান, আগুনের আতঙ্কে হুড়োহুড়ির সময় নাসরিনের অক্সিজেন মাস্ক খুলে যায়, যার ফলে অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্য তৌহিদ। ভোরে যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে, তখন অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের বিকট শব্দে এবং ধোঁয়ার তীব্রতায় চারদিকে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেক রোগী জীবন বাঁচাতে শয্যা ছেড়ে কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সামনের মাঠ ও সড়কে আতঙ্কিত রোগী ও তাদের স্বজনদের আহাজারিতে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মাসুদ সর্দার জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটিকে আগুনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। তবে হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে কেন পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

 খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ঘটনা আমাদের চিকিৎসা সেবার অবকাঠামো এবং অগ্নি নিরাপত্তার দুর্বল দিকগুলোকেই আবারও সামনে নিয়ে এল। একটি সরকারি হাসপাতালে রোগীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে এভাবে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত অগ্নি মহড়া, বৈদ্যুতিক লাইনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে জরুরি বহির্গমন ও উদ্ধার অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

এলাকা: খুলনা
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: স্থানান্তরকালে রোগীর মৃত্যু, আহত পাঁচ

R
Roksana | 20 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার