গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গভীর রাতে দুই পৃথক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুটি পরিবারের স্বপ্ন। বসতবাড়ি, গবাদিপশু এবং সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা দুটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহদীপুর গ্রাম এবং পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপীনাথপুর গ্রামে পৃথকভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্ব হারায় অসহায় পরিবারগুলো।
মহদীপুর গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত আরিফুর রহমানের পরিবার জানায়, গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই হঠাৎ বাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তারা কোনো মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। আগুনে তাদের বসতঘরসহ তিনটি দুগ্ধবতী গাভী, দুটি অটোভ্যান এবং ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন এই অটোভ্যান ও গরুগুলো হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আরিফুর।
অন্যদিকে, পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপীনাথপুর গ্রামে আব্দুল জলিল মিয়ার বাড়িতেও একই রাতে আগুনের তাণ্ডব চলে। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক স্বল্প সংযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার পর প্রতিবেশীরা ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করলেও ঘরবাড়িসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় আব্দুল জলিল মিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, সব হারিয়ে তারা এখন একেবারে নিঃস্ব। এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক আর্থিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব না হলেও এর ফলে দুটি পরিবারই দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়েছে। এলাকায় এখন চলছে শোকের মাতম এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার দুটির প্রতি সমবেদনা জানাতে ভিড় করছেন গ্রামবাসী।
অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, অসতর্কতা বা কারিগরি ত্রুটি কত দ্রুত একটি স্বচ্ছল পরিবারকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যেতে পারে। কেবল ত্রাণ সহায়তা নয়, বরং এসব প্রান্তিক মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রয়োজন। আমাদের সামান্য সহমর্মিতাই পারে তাদের আবার বেঁচে থাকার সাহস জোগাতে।