চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট) ও সমমানের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের অন্য আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষাসমূহ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি চলবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশাপাশি এই বিভাগের অধীনে থাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অবশিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষাগুলোও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
তবে চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। সূচি অনুযায়ী, আজ শনিবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ভূগোল দ্বিতীয় পত্র এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আল ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে বিএমটি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি) এবং অন্যান্য বৃত্তিমূলক বিষয়ের পরীক্ষাও যথারীতি চলবে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বিবেচনা করে প্রতিটি বিষয়ে তিন সেট করে বিকল্প প্রশ্ন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ট্রমার (মানসিক বিপর্যস্ততা) মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে তাদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হতো। তাই পরীক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে গত ৮ জুলাই থেকেই চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা দফায় দফায় স্থগিত ছিল। এর মধ্যে দেশজুড়ে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে দেখা যায়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বাদে দেশের অন্য সব অঞ্চলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়। এবারের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন