শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় পারদর্শী করে তোলার জন্য দেশের শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' (আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) চাঁদপুরের কচুয়ায় অবস্থিত মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার ওপর জোর
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে দক্ষ করে তুলতে হবে। এ কারণেই চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন করে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চাপ কমাতে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' এবং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রাথমিক কারিগরি শিক্ষা বিষয়টি চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানে নয়, বরং মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঠিক পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হবে।
কচুয়াকে শিক্ষার মডেল করার পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাকে জাতীয় শিক্ষাক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষক সমাবেশে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার যেসব সমস্যা উঠে এসেছে, সেগুলোর অনেকগুলোই মূলত সমগ্র বাংলাদেশের সাধারণ চিত্র। তাই মাঠপর্যায়ের এই আলোচনা শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।