Logo
ট্রেন্ডিং: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক  এক মাস বাড়লো ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ফ্যাসিস্টদের আমরা আইনের আওতায় আনবো: রেজাউল করিম মল্লিক

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ‘কৃষক কার্ড’ যুগের সূচনা

BNJK
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ‘কৃষক কার্ড’ যুগের সূচনা

পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের পুণ্যলগ্নে দেশের কৃষি খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। কৃষকের ভাগ্যবদল ও সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দিতে টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে প্রান্তিক চাষিদের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল সমাবেশস্থলে পৌঁছান। ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে তিনি যখন টাঙ্গাইলের পথে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার উৎসুক জনতা তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার জবাব দেন। পহেলা বৈশাখের এই আনন্দঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে পৌঁছানোর পর প্রথমেই মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি পৌর উদ্যানে আয়োজিত বিশাল কৃষক সমাবেশে যোগ দেন। এই সমাবেশ থেকেই দেশব্যাপী ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঐতিহাসিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ‘কৃষক কার্ড’ মূলত একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার), যা একজন প্রকৃত কৃষকের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, সার, বীজ ও ঋণের সুবিধা পাবেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষকের হাতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজার কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী বেলা সোয়া ১২টার দিকে পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও উন্নত জাতের ফসলের স্টলগুলো তিনি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামে যেন আধুনিক কৃষি সেবা পৌঁছায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহরকে নবরূপে সাজানো হয়েছিল। প্রধান সড়কগুলো ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ দিয়ে সাজানো হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন ছিল। স্টেডিয়াম, হ্যালিপ্যাড ও সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছিল দুর্ভেদ্য নিরাপত্তাবলয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করা হবে। পহেলা বৈশাখের এই দিনে কৃষক কার্ডের উপহার পেয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

কৃষক কার্ড প্রবর্তন বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বিপ্লবাত্মক পদক্ষেপ। এতদিন পর্যন্ত কৃষকরা রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা পেতে নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বাধার সম্মুখীন হতেন। এই ডিজিটাল কার্ডের ফলে সরকারের অর্থ ও সম্পদ সরাসরি প্রকৃত চাষির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা হাতে পৌঁছাবে। এটি যেমন দুর্নীতি রোধ করবে, তেমনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষকদের এই অগ্রযাত্রায় শামিল করা অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ‘কৃষক কার্ড’ যুগের সূচনা

B
BNJK | 14 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার