সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক থেকে ডাকাতদের লুট করা গরুগুলো শেষ পর্যন্ত পৌঁছাত রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপার শপে। এক বছর আগে সংঘটিত গরু ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা পেয়েছে।
শনিবার সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছর ১৭ এপ্রিল কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি ষাঁড় গরু কিনে পিকআপ যোগে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে ডাকাতরা কৌশলে ট্রাক দিয়ে ওই পিকআপের গতিরোধ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে চালক, হেলপার ও রাখালদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে এবং পিকআপ থেকে ১৪টি গরু নিজেদের ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ রিপন ওরফে হাসান নামে একজনকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে রিপন ১৬৪ ধারায় নিজের দায় স্বীকার করে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানায়, ডাকাত দলের লুট করা গরুগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি না করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার সুপার শপে মাংস সরবরাহকারী জিয়া হোসেনের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হতো। আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে রিপন জানিয়েছে, লুট করা গরুগুলো জবাই করার পর মাংস বিভিন্ন বড় সুপার শপে পৌঁছে দেওয়া হতো। সাধারণ ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই সেগুলো কিনে বাড়িতে নিয়ে যেত।
রিপনের জবানবন্দির সূত্র ধরে পুলিশ ঢাকার আশুলিয়া ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাংস সরবরাহকারী জিয়া হোসেন (৪৫) এবং তার সহযোগী কসাই আব্দুল আলিমকে (৪২) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে গরু ডাকাতি করে আসছিল এবং স্থানীয় কসাই ও ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সেই মাংস সুপরিকল্পিতভাবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা আলী আসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রিপন ছাড়াও বাকি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তারা কোন কোন সুপার শপে কতদিন ধরে এই মাংস সরবরাহ করে আসছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মহাসড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি এমন ভয়াবহ অপরাধের খবর জনমনে চরম শঙ্কা তৈরি করেছে। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের বিশুদ্ধতা ও উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষ বরাবরই চিন্তিত থাকে। ডাকাতি করা গরুর মাংস সুপার শপের মাধ্যমে মানুষের ডাইনিং টেবিলে পৌঁছানোর ঘটনাটি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বড় ব্যর্থতা ও সতর্কবার্তা। এক্ষেত্রে সুপার শপগুলোর উচিত মাংস সংগ্রহের সময় উৎসের যথাযথ প্রমাণপত্র যাচাই করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা। মানুষের খাদ্যের সাথে এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।