নতুন বছরের আনন্দ যখন ঘরে ঘরে কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল সাতটি তাজা প্রাণ। মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পণ্যবাহী ট্রাক রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেলে এই শোকাবহ ঘটনার সৃষ্টি হয়।
পহেলা বৈশাখের স্নিগ্ধ ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেমে আসে এই শোকের ছায়া। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় একটি চালবোঝাই ট্রাক চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সড়কের পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এই ট্রাকটি দিনাজপুরের দিক থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন যাত্রী বস্তার নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাতজন পুরুষ। দাউদকান্দি মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা অঞ্চলের মহাসড়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই দিনমজুর অথবা নিম্ন আয়ের মানুষ হতে পারেন, যারা পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় এবং ভারী চালের বস্তার নিচে চাপা পড়ায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মহাসড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। এর আগে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অনেক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উৎসবে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
উৎসবের দিনে এই মৃত্যু আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্রকেই বারবার মনে করিয়ে দেয়। যখন পুরো জাতি উৎসবে মাতোয়ারা, তখন সাতটি পরিবারের আঙিনায় নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া। পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে যাতায়াত করছে, সেই কারণগুলো খুঁজে দেখা জরুরি। সড়কের এই রক্তপাত বন্ধে কেবল আইন নয়, চালক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি একান্ত প্রয়োজন।