তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সারা দেশ। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কৃষকদের দুর্ভোগ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ খাতের নাজুক পরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালীন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়টুকুতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু পলাশ নয়, কক্সবাজারের চকরিয়ায় আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার্থীরাও অন্ধকারে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাজশাহীর তানোর ও নওগাঁর রাণীনগরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনে ও রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধান ও আলু চাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই চিত্র খুলনা ও সিলেটেও, যেখানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কলকারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে।
চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জ্বালানি সংকটে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সেখানে ঘাটতির পরিমাণ ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। রাতের অন্ধকারে স্থবির হয়ে পড়ছে বাণিজ্যিক রাজধানী। এদিকে গোপালগঞ্জে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জেনারেটর বিকল থাকায় সেবাগ্রহীতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। কুমিল্লার দেবীদ্বারে খোদ সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ মোমবাতি বিতরণ করে এই তীব্র সংকটের অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। গতকাল শুক্রবার সারা দেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ ও বরিশালসহ অন্যান্য জেলাতেও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনরোষ ক্রমেই বাড়ছে।
Closing Analysis: বিদ্যুৎ কেবল একটি সেবা নয়, বরং আধুনিক জীবনের চালিকাশক্তি। শিক্ষা, কৃষি ও শিল্পের এই স্থবিরতা দেশের অর্থনীতির চাকা থামিয়ে দিতে পারে। কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের অন্ধকার ঘরে বসে থাকাটা এক চরম বৈপরীত্য। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত স্বচ্ছতার সাথে এই সমস্যার মূল উৎপাটন করা।