দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বইতে থাকা মৃদু তাপপ্রবাহ এখনই থামছে না। তবে তপ্ত রোদের মাঝে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর; সিলেটসহ কয়েকটি বিভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশাখের আকাশ এখন রোদেলা উত্তাপ আর মেঘের লুকোচুরি খেলায় মত্ত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত বার্তায় জানানো হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) বয়ে যাচ্ছে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টাও অব্যাহত থাকতে পারে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলের জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিনের বেলা সূর্যের তেজ বা তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্তমানে পশ্চিমা জেলাগুলোতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকলেও মাঝে মাঝে আংশিক মেঘলা ভাব দেখা যেতে পারে।
তবে মেঘের ঘনঘটা আর বৃষ্টির সুখবর রয়েছে পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের জন্য। আবহাওয়াবিদদের মতে, সিলেট বিভাগের বেশ কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বা ঝড়ো বাতাসের সাথে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গুমোট গরম কমতে পারে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের প্রবাহ কিছুটা বেশি থাকায় সেখানে গরমের অনুভূতি কিছুটা সহনীয় হতে পারে। নদী অববাহিকা ও সংলগ্ন এলাকায় সকালের দিকে হালকা কুয়াশা পড়ারও আভাস রয়েছে।
প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময় রূপ আমাদের চিরচেনা ঋতুবৈচিত্র্যেরই অংশ। একদিকে প্রচণ্ড গরম আর অন্যদিকে ক্ষণিকের বজ্রবৃষ্টি—এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যারা সরাসরি রোদে কাজ করেন, তাদের পানিশূন্যতা রোধে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনায়ও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।