Logo
ট্রেন্ডিং: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক  এক মাস বাড়লো ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ফ্যাসিস্টদের আমরা আইনের আওতায় আনবো: রেজাউল করিম মল্লিক

নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকার, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে জোর তৎপরতা

BNJK
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকার, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে জোর তৎপরতা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন ও বিকল্প শ্রমবাজার সৃষ্টিতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার পাশাপাশি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার নতুন নতুন দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। সংসদ নেতা বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা বিবেচনা করে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকে আরও নিরাপদ ও বিস্তৃত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার হিসেবে ইউরোপের সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল এবং এশিয়ার থাইল্যান্ডের সঙ্গেও কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি মিশনে থাকা বাংলাদেশিদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান (পরামর্শক সংস্থা) নিয়োগের কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শ্রমবাজারের চাহিদা ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করতে সরকার নিরলস কাজ করছে। চলতি মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর হবে এবং পুনরায় বড় আকারে কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র সম্পদ বা সুনীল অর্থনীতি (সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক কার্যক্রম) নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য, পর্যটন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ার পরিকল্পনা করছে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন প্রাথমিক শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র মাধ্যমে বাকি সকল শিক্ষককেও পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে ইউরোপ ও আমেরিকার নতুন বাজার দখল করা একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না গেলে এই বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি জনশক্তিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এখন সময়ের দাবি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকার, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে জোর তৎপরতা

B
BNJK | 15 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার