জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে মুন্সীগঞ্জে। সোমবার সকালে নানা বাড়ির আঙিনায় শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানাতে ঢল নামে শুভানুধ্যায়ীদের, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদের কন্যা কারিনা কায়সার অকাল প্রয়াণে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশে এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল আটটার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তার নানাবাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল সাতটার দিকে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ গজারিয়ায় পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।
কারিনা কায়সারের অসুস্থতার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও মর্মান্তিক। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হেপাটাইটিস এ ও ই (এক ধরনের জন্ডিসজনিত ভাইরাস) ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার যকৃৎ বা লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় গত আট মে তাকে ঢাকায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে রাতে আকাশপথে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর সিএমসি (খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
দেশের বাইরে চিকিৎসারত অবস্থায় ১৫ মে রাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার তো বটেই, তার অগণিত অনুরাগী ও সহকর্মীরাও ভেঙে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি তার সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে অল্প সময়েই অনেকের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। তার জানাজায় বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই তরুণীকে শেষ বিদায় জানান।
তরুণী এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে বিনোদন জগতে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। জীবনের শুরুতেই এমন সম্ভাবনাময় একজনের চলে যাওয়াকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তার বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের। কর্মময় জীবনে তিনি যেমন প্রাণবন্ত ছিলেন, শেষ বিদায়েও সেই পরিচিত মুখটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে সবার হৃদয়ে। তার মৃত্যুর খবর প্রচার হওয়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে শোকের বার্তা বয়ে যাচ্ছে, অনেকেই তার অকাল বিদায়ে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরিশেষে, জীবন কতটা ভঙ্গুর তা কারিনা কায়সারের এই অকাল প্রয়াণ আরও একবার মনে করিয়ে দিল। অল্প বয়সে লিভার অকেজো হয়ে যাওয়ার মতো অসুস্থতা সচেতনতার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। যেকোনো শারীরিক লক্ষণকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি। একজন প্রতিশ্রুতিশীল মানুষের এমন চলে যাওয়া সত্যিই আমাদের সবার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যু আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সুস্থতাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা শরীরের প্রতি যে অবহেলা করি, তার মূল্য অনেক সময় অকালে গুনতে হয়। পরিবারের স্বজনদের জন্য এই শোক কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহ্বান থাকবে—স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, কারণ জীবনের কোনো বিকল্প নেই।