ফ্রান্সের নীল জলরাশির শহর কানে পর্দা উঠেছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। ১২ দিনের এই জমকালো আসর মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে, যেখানে বরাবরের মতো এবারও সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বৈচিত্র্যময় মঞ্চ হিসেবে পরিচিত কান চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও ফ্রান্সের উপকূলীয় শহর কানে বসেছে রুপালি পর্দার জাদুকরদের মিলনমেলা। মঙ্গলবার, ১২ মে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের ৭৯তম আসর চলবে টানা ১২ দিন ধরে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খ্যাতিমান নির্মাতা, গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং সিনেমাপ্রেমীদের পদচারণায় এখন মুখরিত ফরাসি এই জনপদ। তবে উৎসবের উদ্বোধনী দিন থেকেই আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের শীর্ষ তারকা আলিয়া ভাট।
কান উৎসব মানেই কেবল শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার নয়, বরং এটি বিশ্ব ফ্যাশন ও আভিজাত্যেরও এক অনন্য প্রদর্শনী। উৎসবের আঙিনায় পা রেখেই আলিয়া ভাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একগুচ্ছ মনোমুগ্ধকর ছবি প্রকাশ করেছেন, যা মূহুর্তেই অন্তর্জালে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশির পটভূমিতে আলিয়ার এই উপস্থিতি ছিল এক কথায় অনবদ্য। তাঁর পরনে ছিল হালকা রঙের (প্যাস্টেল শেড) এক দীর্ঘ চমৎকার পোশাক, যা রোদের আলোয় যেন এক স্বপ্নিল আভার সৃষ্টি করেছিল।
আলিয়ার এবারের সাজসজ্জায় ছিল আভিজাত্য ও সারল্যের এক অপূর্ব মিশেল। ফুলেল নকশায় ঘেরা তাঁর এই হালকা রঙের পোশাকটি যেমন ছিল আধুনিক, তেমনি এটি বহন করছিল এক ধরণের স্নিগ্ধ আভিজাত্য। সাধারণত কান উৎসবে তারকাদের খুব ভারী সাজে দেখা গেলেও, আলিয়া এবার বেছে নিয়েছেন একেবারেই সাধারণ ও প্রাকৃতিক সাজ (মিনিমালিস্ট মেকআপ)। তাঁর ছিমছাম কেশবিন্যাস (হেয়ারস্টাইল) এবং আত্মবিশ্বাসী চাহনি যেন তাঁর রূপকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কখনো সমুদ্রের হাওয়ায় উড়ন্ত চুলে হাসিমুখে, আবার কখনো ক্যামেরার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকানো ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে এক বিশ্বমানের তারকার পরিপক্কতা।
আলিয়ার এই নতুন রূপ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে ব্যাপক উন্মাদনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন তিনি। অনেকেই বলছেন, সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আলিয়ার এই স্নিগ্ধ পোশাকের রঙ ও নকশা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বিশেষ করে তাঁর এই সাধারণ কিন্তু দৃষ্টিনন্দন রূপটি আধুনিক প্রজন্মের কাছে এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, কান চলচ্চিত্র উৎসব কেবল লাল গালিচায় হাঁটার কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি এমন এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ যেখান থেকে একটি ভালো সিনেমা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছানোর ছাড়পত্র পায়। এই উৎসবের মাধ্যমেই অনেক স্বল্প পরিচিত নির্মাতা বা অভিনয়শিল্পী বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও সম্মান লাভ করেন। সিনেমার এই বিশ্বজনীন উৎসবে আলিয়ার মতো দক্ষিণ এশীয় তারকাদের জোরালো উপস্থিতি বৈশ্বিক চলচ্চিত্রে আমাদের অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রের এই মহাযজ্ঞের আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক বড় বড় তারকা ও আলোচিত সিনেমা নিয়ে আলোচনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সিনেমাপ্রেমীরা। কানের সমুদ্রসৈকত থেকে ভেসে আসা প্রতিটি খবর এখন কোটি কোটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী কয়েক দিন এই শহরটিই হয়ে উঠবে সৃজনশীলতা আর বিনোদনের বিশ্ব রাজধানী।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মঞ্চে আলিয়া ভাটের এই সাফল্য ও স্নিগ্ধ উপস্থিতি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো দক্ষিণ এশীয় বিনোদন জগতের জন্যও এক বড় প্রাপ্তি। শিল্পের কোনো সীমানা নেই—এই কথাটিই যেন বার বার মনে করিয়ে দেয় কানে আয়োজিত এই বারো দিনের উৎসব। যেখানে একদিকে চলে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, অন্যদিকে চলে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন। চলচ্চিত্র কি কেবল বিনোদন, নাকি এটি সমাজের দর্পণ হয়ে বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধার মাধ্যম? কানের এই আসর সেই ভাবনাই আরও একবার উসকে দিচ্ছে।