ভারতের শীর্ষ সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া নতুন গান ‘সাজনা রে’ দিয়ে বলিউড জয় করলেন বাংলাদেশের দুই তরুণ শিল্পী। জনপ্রিয় র্যাপার বাদশা ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহির এই গানে কণ্ঠ দিয়ে তাশফী এবং সংগীত পরিচালনা করে সঞ্জয় এখন নেটদুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে।
গত ৩ এপ্রিল বিশ্বখ্যাত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর থেকেই ‘সাজনা রে’ গানটি সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে ফিরছে। আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োগ আর নজরকাড়া দৃশ্যধারণের এই গানটি মাত্র কয়েক দিনেই ৯০ লক্ষাধিক মানুষের মন জয় করেছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত বিষয়ের (ট্রেন্ডিং) তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে।
গানটির নেপথ্যে থাকা কারিগর বাংলাদেশের তরুণ সংগীত পরিচালক সঞ্জয়। তিনি কেবল এর সুর ও সংগীত আয়োজনই করেননি, বরং বাদশা ও নোরার পাশাপাশি গানের কথায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। গানের মূল আকর্ষণ অর্থাৎ র্যাপ অংশটি বরাবরের মতোই লিখেছেন স্বয়ং বাদশা। আন্তর্জাতিক মানের শব্দশৈলী আর তারকাবহুল উপস্থিতির কারণে গানটি অল্প সময়েই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে।
এই বড় আয়োজনে নিজের অংশগ্রহণ নিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠশিল্পী তাশফী বলেন, এটি তার কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো। তিনি জানান, ঢাকায় অবস্থানকালেই সঞ্জয় তাকে হঠাৎ স্টুডিওতে ডেকে গানটি রেকর্ড করিয়ে নেন। তখন তিনি ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে, এই গানে পরে বলিউডের এত বড় মাপের তারকারা যুক্ত হবেন। গানটি প্রকাশের পর পুরো চমকটি যখন তার সামনে উন্মোচিত হয়, তখন তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
টি-সিরিজের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বলিউডে নিজের যাত্রা শুরু হওয়াকে পরম ভাগ্যের বলে মনে করছেন তাশফী। তিনি মনে করেন, এই অর্জন দীর্ঘদিনের সাধনা আর ধৈর্যের ফসল। নিজের পরিবার, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল করতে তিনি নিরলস কাজ করে যাবেন।
সঞ্জয় ও তাশফীর এই অভূতপূর্ব সাফল্য দেশের সংগীত জগতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশের মাটি ছাড়িয়ে বিদেশের গণ্ডিতেও যে আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা স্বীকৃতি পাচ্ছে, এই গানটি তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সংগীতে আধুনিকতা আর প্রতিভার মেলবন্ধন ঘটলে যে যে কোনো সীমানা অতিক্রম করা সম্ভব, ‘সাজনা রে’ গানের জয়জয়কার যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।
আমাদের দেশের মেধাবী শিল্পীরা যখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেন, তখন তা পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বাদশা ও নোরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে কাজ করা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সংগীত শিল্পের সক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সংগীতিবিদেরা বিশ্ব দরবারে নিয়মিতভাবে নিজেদের আসন সুসংহত করবেন বলে আশা করা যায়।