মাগুরা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় মাদক বিরোধী এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ শাখার এক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মাগুরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত শনিবার দিবাগত রাতে এক সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শহরের ঢাকা রোড সংলগ্ন রতন হোটেলের সামনে মাদক কেনাবেচা চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আবু জাফর বিশ্বাসের ছেলে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজ, একই উপজেলার চাপড়ী গ্রামের দিপ্ত বিশ্বাস এবং তমা নামের এক নারী। তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে ৩০০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা বড়ি এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ।
মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি রাসেল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, এই অভিযানে আটক নাহিদ হাসান সবুজ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে তার উশৃঙ্খল জীবনযাপন ও অসামাজিক কার্যকলাপের অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবা তাকে আদালতের মাধ্যমে আইনিভাবে সম্পর্ক ছিন্ন বা ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় ঘটনাটি ঝিনাইদহ ও মাগুরা অঞ্চলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও সবুজ তার মাদক ও চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাগুরা জেলা পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা মনে করছেন, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে এ ধরনের জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অব্যাহত থাকলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসার এই ভয়াবহ চিত্র সমাজকে এক অশনি সংকেত দিচ্ছে। যে তরুণদের হাতে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব, তারা যখন মরণনেশায় আসক্ত হয়ে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তা জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও সবুজের এই অন্ধকার পথ বেছে নেওয়া প্রমাণ করে যে, শুধুমাত্র আইনি ব্যবস্থা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের অভাবই এই অবক্ষয়ের মূল কারণ। মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশি তৎপরতা নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ জরুরি।