চট্টগ্রামের রাউজানে কাপ্তাই সড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এক অটোরিকশাচালক। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কাপ্তাই সড়কের মাইজ্জামিয়ার ঘাটা এলাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নজরুল ইসলাম নামের এক চালক। নিহত নজরুল উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মীরধারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিতে জ্বালানি গ্যাস নেওয়ার জন্য একটি পাম্পে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গ্যাস নিয়ে যাত্রীসহ নোয়াপাড়া-পথেরহাটের দিকে ফেরার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস তাদের সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে মাথায় ও শরীরে মারাত্মক আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশায় থাকা আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে প্রিয়জন বা প্রতিবেশীর এমন অকাল মৃত্যু সইতে না পেরে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা তৎক্ষণাৎ কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন এবং ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে ওই পথে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে রাউজান থানা পুলিশ ও দমকল বাহিনী (ফায়ার সার্ভিস) দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দমকল কর্মীরা বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নজরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাংলাদেশে এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাউজানের এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, আমাদের সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কতটা জরুরি। চালকদের বেপরোয়া গতি আর অসাবধানতা একটি সাজানো পরিবারকে মুহূর্তেই পথে বসিয়ে দেয়। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাসে আগুন দেওয়া কোনো সমাধান নয়, বরং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই হোক প্রধান দাবি।