রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা তমা মির্জা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রামিসা হত্যার ভয়াবহতা চিত্রনায়িকা তমা মির্জার মনকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। তমা মির্জা তার পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই অপরাধীর বিচার হওয়া উচিত। তিনি লিখেছেন, ধর্ষণকারীর বিচার যেন ধর্ষণের শিকার শিশুটির জানাজার আগেই সম্পন্ন হয়। তার মতে, এমন কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে এই ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের অপরাধীরা ভবিষ্যতে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড করার কথা স্বপ্নেও ভাবতে সাহস না পায়।
আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অপরাধীদের পক্ষে আইনজীবীদের অবস্থান নেওয়া নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধী যখন ধরা পড়েছে এবং তার অপরাধ সুস্পষ্ট, তখন তদন্ত বা ব্যাখ্যার নামে কেন সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে? তমা মির্জা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ধর্ষণকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবীর দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। তার এই মন্তব্য মূলত সাধারণ মানুষের মনের জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিফলন।
নিহত শিশু রামিসার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তমা মির্জা তাকে নিজের বোনের জায়গায় বসিয়েছেন। তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রামিসা শুধু একটি শিশু নয়, সে আমার বোন, আপনার বোন। আমাদের বোনের এমন নৃশংস হত্যাকারীর অবশ্যই শাস্তি চাই।’
উল্লেখ্য, মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল জানিয়েছে, এই পৈশাচিক অপরাধ করার ঠিক আগে সে মাদকদ্রব্য (ইয়াবা) সেবন করেছিল। এই স্বীকারোক্তি অপরাধের গভীরতাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
তমা মির্জার এই প্রতিক্রিয়া কেবল একজন তারকার ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, এটি সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষের কণ্ঠস্বর। বারবার এমন ঘটনা আমাদের প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়—আমাদের শিশুসন্তানরা কি আসলেই নিরাপদ? আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধরনের অমানুষিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামানো অসম্ভব। রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মম পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সেটাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।