ইসরাইলি হামলায় লেবাননে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নারী দীপালি খাতুনের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ঐকান্তিক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবানন থেকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইচ্ছুক ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি নারী কর্মী দীপালি খাতুন। শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই দুঃখজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "গত দুদিন আগে লেবাননে চালানো হামলায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে আমাদের দেশের দীপালি খাতুনও রয়েছেন। একজন কর্মঠ প্রবাসীর এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।" প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের বোন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
তবে মরদেহ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, লেবাননে এখন যুদ্ধের কারণে নিয়মিত বিমান চলাচল বা উড়োজাহাজ (ফ্লাইট) স্বাভাবিক নেই। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে যাতে দ্রুততম সময়ে দীপালির মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে লেবাননসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সেজন্য সরকার সচেষ্ট রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা প্রবাসীদের সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা চলমান অস্থিরতার কারণে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী, তাদের জন্য বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের (ভাড়ায় চালিত বিশেষ বিমান) ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নারীসহ মোট আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। সরকার বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসী শ্রমিকরা আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। যুদ্ধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে প্রাণ হারানো এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষা প্রদান করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। দীপালি খাতুনের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে এনে তার পরিবারের শেষ ইচ্ছা পূরণ করা এবং লেবাননে আটকে পড়া বাকি বাংলাদেশিদের নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা কতটা কার্যকর, তা প্রবাসীদের জীবন রক্ষার মাধ্যমেই আজ প্রমাণিত হবে।