প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করেছে। শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ থাকা চিকিৎসা ও ব্যবসায়ী ভিসা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে দেশটি। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি তাদের সফল ভারত সফর এবং সে দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনার সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন তারা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হুমায়ুন কবির জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে তাদের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ সরকার চিকিৎসা ও ব্যবসায়ী ভিসা দ্রুত চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ভারত সরকারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করবে। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষে সংলাপ ও আলোচনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আলোচনায় জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য উপদেষ্টা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান। এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আইনি প্রক্রিয়া ও আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও নয়াদিল্লির সাথে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ। হুমায়ুন কবির শেখ হাসিনাকে 'সন্ত্রাসী' ও 'স্বৈরাচার' হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। ভারতের মাটিতে বসে তিনি যাতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারেন, সে বিষয়েও দিল্লিকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার গুরুত্ব এখন আর অবশিষ্ট নেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতকে অস্থিতিশীল করে বাংলাদেশের যেমন কোনো লাভ নেই, তেমনি ভারতেরও উচিত হবে না বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা। দুই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সম্পর্কের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় উভয় দেশই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সংলাপের মাধ্যমে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পুনরায় সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। ভিসা জটিলতা নিরসন এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো যদি সফলভাবে সমাধান করা যায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্থায়িত্ব আনতে হলে পারস্পরিক সম্মান ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।