রংপুরে যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার চরম প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় শহর রংপুরের চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা রাকিব হাসান হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। সোমবার রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার শাহাপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মমিন মিয়া এবং তার স্ত্রী সুইটি বেগমকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৩-এর একটি বিশেষ দল।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাকিবের সাথে আসামি মমিনের পূর্ব শত্রুতা থাকলেও হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল একটি চড়। গত ৮ এপ্রিল কোনো একটি বিষয় নিয়ে রাকিব ও মমিনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে মমিনের স্ত্রী সুইটি বেগম রাকিবকে চড় মারেন। এর প্রতিবাদে রাকিবও পাল্টা সুইটির গালে চড় কষিয়ে দেন। এই ঘটনাটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় রাকিবের জন্য।
ঘটনার পরপরই সুইটি বেগম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তার স্বামী মমিনকে মুঠোফোনে উসকানি দেন। তিনি মমিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রাকিব তাকে সবার সামনে চড় মেরেছে; মমিন যদি প্রকৃত পুরুষ মানুষ হয়ে থাকে তবে যেন রাকিবকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। স্ত্রীর এমন অপমান এবং চ্যালেঞ্জের মুখে মমিন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং রাকিবকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল বিকেলে নগরীর দাস পাড়া এলাকায় রাকিবকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালান মমিন ও তার সহযোগীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যান। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১৩-এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। স্ত্রীর উসকানিতেই মমিন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। বর্তমানে গ্রেফতারকৃত এই দম্পতিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতেও পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একটি তুচ্ছ চড় থেকে শুরু হওয়া বিরোধ যখন খুনের মতো ভয়াবহ অপরাধে রূপ নেয়, তখন তা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্রই তুলে ধরে। স্ত্রীর উসকানি আর স্বামীর অন্ধ জিদ—একটি সাজানো সংসারকে যেমন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তেমনি ঝরে গেছে একটি তাজা প্রাণ। তুচ্ছ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা রোধে কেবল বিচার নয়, সামাজিক সহনশীলতা বৃদ্ধিও একান্ত প্রয়োজন।