Logo
ট্রেন্ডিং: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক  এক মাস বাড়লো ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ফ্যাসিস্টদের আমরা আইনের আওতায় আনবো: রেজাউল করিম মল্লিক

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮ মাসে ৮১ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬১ দস্যু আটক

BNJK
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮ মাসে ৮১ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬১ দস্যু আটক

সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যু দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গত দেড় বছরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কুখ্যাত দস্যু সম্রাটসহ অর্ধশতাধিক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাটের মোংলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম গত ১৮ মাসের অভিযানের সাফল্য ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মোট ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ (বন্দুকের গুলি) উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানগুলোর মাধ্যমে সুন্দরবনের কুখ্যাত করিম-শরীফ বাহিনী, নানা ভাই বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী, আলিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন নামধারী ও বেনামি দস্যু চক্রের ৬১ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বনদস্যুদের এই দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দস্যুদের গোপন আস্তানাগুলো খুঁজে বের করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এছাড়া দস্যুদের কবলে থাকা ৭৮ জন সাধারণ জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে অক্ষত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা এই অভিযানের অন্যতম বড় মানবিক সাফল্য।

কেবল দস্যু দমনই নয়, সুন্দরবনের অমূল্য বনজ ও প্রাণিজ সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। গত ১৮ মাসে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস এবং ৯০০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করার পাশাপাশি ২৯ জন হরিণ শিকারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল এবং বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা (মাছের ছোট বাচ্চা) জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

জোনাল কমান্ডার জানান, সম্প্রতি নতুন কিছু দস্যু বাহিনী সুন্দরবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা' (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে দস্যুদের সমূলে উৎপাটন করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ (সুন্দরবনে শান্তি পুনরুদ্ধার অভিযান) এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ (ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা অভিযান) শীর্ষক দুটি বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি (যারা গোলপাতা ও কাঠ সংগ্রহ করেন) এবং মৌয়ালদের (যারা মধু সংগ্রহ করেন) নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কোস্ট গার্ডের মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন নৌযানের মাধ্যমে বনের গহীন নদী ও খালে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা এরই মধ্যে যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সুন্দরবন হলো বাংলাদেশের ফুসফুস এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস। এই বনের শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সুন্দরবন সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত না হবে, ততক্ষণ কোস্ট গার্ডের এই অতন্দ্র প্রহরা ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার এই জোরালো সংগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে কেবল গ্রেপ্তার বা অস্ত্র উদ্ধারই যথেষ্ট নয়, দস্যুতার পেছনের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করা এবং সাধারণ বনজীবীদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোস্ট গার্ডের এই আপসহীন অবস্থান সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও পর্যটন খাতের বিকাশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা যায়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান: ১৮ মাসে ৮১ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬১ দস্যু আটক

B
BNJK | 13 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার