Logo
ট্রেন্ডিং: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক  এক মাস বাড়লো ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ফ্যাসিস্টদের আমরা আইনের আওতায় আনবো: রেজাউল করিম মল্লিক

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরও ছোঁয়নি খনন যন্ত্র: মৌলভীবাজারের মানুষের চিরস্থায়ী ‘দুঃখ’ এখন মনু নদী

BNJK
29 August 2026, 02:05 AM পড়তে ১ মিনিট
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরও ছোঁয়নি খনন যন্ত্র: মৌলভীবাজারের মানুষের চিরস্থায়ী ‘দুঃখ’ এখন মনু নদী

 এক সময়ের প্রমত্তা ও রূপালী মনু নদী এখন কেবলই অতীতের স্মৃতি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকেও একবারের জন্য খনন না করায় এই নদী এখন মৌলভীবাজারবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল আর পলি-বালিতে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীটি এখন বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে জনপদ ভাসিয়ে দিচ্ছে।

 ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা খরস্রোতা মনু নদী মৌলভীবাজারের মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এক সময় এই নদীপথেই চলত জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য, আর সুস্বাদু দেশীয় মাছের জন্য এই নদীর খ্যাতি ছিল দেশজুড়ে। কিন্তু সেই সোনালী দিন এখন কেবলই রূপকথা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা লাখ লাখ টন পলি ও বালিতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে একবারও এই নদী খননের (নদীর গভীরতা বাড়ানোর জন্য মাটি অপসারণ) উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

নাব্য সংকটের কারণে বর্তমানে মনু নদী বর্ষায় তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলেই পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে বা ভেঙে কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এমনকি খোদ মৌলভীবাজার শহরও রক্ষা পায় না এই বন্যার হাত থেকে। ঘরবাড়ি, সড়ক আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গিয়ে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সম্পদহানি ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে নদী পাড়ের মানুষকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় শহর রক্ষার বাঁধ পাহারা দিতে।

বিপরীত চিত্র দেখা যায় শুষ্ক মৌসুমে। তখন নদীটি প্রায় পানিশূন্য হয়ে মরা খালে রূপ নেয়। নদীর বুকে জেগে ওঠে অসংখ্য বালুচর। এই সুযোগে একদল অসাধু চক্র অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর পরিবেশ ও গঠন শৈলীকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামত বা পাথর বসানোর কাজ করলেও মূল সমস্যা অর্থাৎ নদী খননের দিকে নজর দিচ্ছে না। নদী বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি, নদীকে তার আগের চেহারায় না ফেরালে কেবল বাঁধ দিয়ে জেলাবাসীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষসহ শহরের বিশিষ্ট নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, শৈশবে দেখা সেই গভীর ও স্বচ্ছ জলের মনু নদী আজ বালুর স্তূপে হারিয়ে গেছে। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় খনন কাজ আজও ফাইলবন্দি হয়ে আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদী খননের আপাতত কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত তাদের কাছে নেই। তবে ভবিষ্যতে সমীক্ষা বা কারিগরি যাচাইয়ের পর যদি প্রয়োজন মনে হয়, তবেই খননের কথা ভাবা হতে পারে। এই অনিশ্চিত আশ্বাসে মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষের মনে হতাশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

নদী বাঁচলে দেশ বাঁচে—এই স্লোগান কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকলে মনু নদীর মতো অনেক সম্পদই আমাদের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। একটি জনপদের রক্ষা কবজ যখন সেই অঞ্চলের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝতে হবে ব্যবস্থাপনায় কোথাও বড় ধরনের গলদ রয়েছে। মৌলভীবাজারকে স্থায়ীভাবে বন্যা থেকে বাঁচাতে এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে দ্রুত মনু নদী খনন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরও ছোঁয়নি খনন যন্ত্র: মৌলভীবাজারের মানুষের চিরস্থায়ী ‘দুঃখ’ এখন মনু নদী

B
BNJK | 12 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার