হাদি হত্যা মামলায় বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। বিদ্যমান বন্দি বিনিময় বা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. হুমায়ূন কবীর এই আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলোচিত হাদি হত্যা মামলায় যারা বিদেশে আত্মগোপন করে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সবটুকু সুযোগ ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, সেই আইনি পথেই আসামিদের দেশে সোপর্দ করার অনুরোধ জানানো হবে।
আলোচনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি বা অনুরোধ সরকার অব্যাহত রাখবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পথ সবসময় খোলা রাখা হবে। বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে আগামীতে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বস্তির খবর দিয়েছেন ড. হুমায়ূন কবীর। তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। এতে করে অসুস্থ রোগী এবং ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবেই। তবে তিনি মনে করেন, আলোচনার টেবিল সক্রিয় থাকলে এবং সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও প্রসারিত হবে। সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে তা দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল অনুরোধ নয়, আইনি ও কৌশলগত দক্ষতার মেলবন্ধনই হতে পারে প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।