মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালের বাইরে চিত্রগ্রাহকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। সংকটাপন্ন বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে তা থেকে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাকে তিনি ‘অমানবিক’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালের সামনে সালমান খানকে দেখা মাত্রই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেন একদল চিত্রগ্রাহক। তারা তার ছবি তোলার চেষ্টা করলে অভিনেতা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে চিত্রগ্রাহকদের উদ্দেশে বলছেন, ‘পাগল হয়ে গেছো?’ স্বাভাবিকভাবেই তার এই আচরণ নিয়ে বিনোদন জগতে তোলপাড় শুরু হয়।
এই ঘটনার রেশ না কাটতেই বুধবার ভোররাতে সালমান খান তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সবসময়ই তিনি সংবাদমাধ্যম এবং চিত্রগ্রাহকদের পেশাগত মর্যাদাকে সম্মান জানিয়ে এসেছেন। তবে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সংকট বা কঠিন মুহূর্তকে পুঁজি করে ছবি তোলা এবং তা থেকে মুনাফা অর্জনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা তাকে ভীষণভাবে আহত করেছে।
সালমান খান প্রশ্ন তোলেন, একটি ছবি কি মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান? তিনি নিজের মনের কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, কারো কঠিন সময়ের ছবি তুলে তা থেকে উপার্জনের মানসিকতা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। নিজের বয়স এবং কাজের প্রতি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষাট বছরে পা দিলেও তিনি লড়াই করতে ভোলেননি। সংবাদমাধ্যম যদি তাকে এই আচরণের জন্য অপরাধী মনে করে বা জেলে পাঠাতে চায়, তবে তিনি তা মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য যে, সালমান খানকে সর্বশেষ ‘সিকান্দার’ সিনেমায় দেখা গেছে। বর্তমানে তিনি তার আসন্ন নতুন সিনেমা ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সিনেমাটিতে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের মধ্যকার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে বরাবরই সালমান খান কিছুটা আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন, বিশেষ করে যখন পরিস্থিতি শোকাবহ বা সংবেদনশীল থাকে। হাসপাতালের মতো স্থানে যেখানে মানুষজন মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকেন, সেখানে এমন ফটোগ্রাফি করাকে তিনি নিজের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
তারকাদের জীবন সবসময়ই সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে, কিন্তু সেলিব্রিটি হওয়ার মানেই যে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো পাবলিক ডোমেইনে বা পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেই সংস্কৃতি নিয়ে পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। সালমানের এই ক্ষোভ একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—পেশাগত দায়িত্ব আর মানবিক সংবেদনশীলতার সীমানা ঠিক কোথায়? সংবাদমাধ্যম ও তারকাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোই সুস্থ সাংবাদিকতার পরিচায়ক।