টাকা আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলচ্চিত্র প্রযোজনার নাম করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৩ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা থানার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য) রাকিবুল হাসান এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণী বা এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত দেবু প্রসাদ রায়ের সাথে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিনের জানাশোনা ছিল। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে দেবু প্রসাদ প্রথম দফায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর একই ব্যবসার নাম করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা এবং ২০২৪ সালে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের (সরকারি কর পরিশোধিত আইনি দলিল) মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা গ্রহণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের দাবি, নগদ ও ব্যাংক লেনদেন ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং তথা বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি সবশেষ চলতি বছরের ৩০ মার্চেও দেবু প্রসাদের অনুরোধে বিকাশের মাধ্যমে তাকে ১০ হাজার ২০০ টাকা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও দেবু প্রসাদ রায় কোনো টাকা ফেরত দেননি। পাওনা টাকা চাইলে তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এমন বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দিশেহারা হয়েই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।
একজন তারকার পরিবারের সদস্য যখন এমন গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েন, তখন তা কেবল সেই ব্যক্তির সম্মানহানি করে না, বরং সংশ্লিষ্ট শিল্পীর পেশাগত ও সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যেকোনো বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পরিচিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে আইনি সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল ভুক্তভোগী তার পাওনা ফিরে পেতে পারেন এবং অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে পারেন।