দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা নামলো দেশের সবচাইতে বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার। রূপ, গুণ আর মেধার লড়াইয়ে সবাইকে পেছনে ফেলে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই চূড়ান্ত পর্বে সারা দেশ থেকে আসা হাজারো প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা সুন্দরীদের নিয়ে বসেছিল তারার মেলা। এই মাহেন্দ্রক্ষণেই ঘোষণা করা হয় নতুন লাক্স সুপারস্টারের নাম।
এবারের আসরে সেরার খেতাব জয়ী বিদুষী বর্ণিতা তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং পারফরম্যান্স দিয়ে বিচারকদের মন জয় করে নিয়েছেন। বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণার সাথে সাথেই সম্মেলন কক্ষে করতালির জোয়ার বয়ে যায়। বর্ণিতার পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ (দ্বিতীয় স্থান অধিকারী) নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার এবং দ্বিতীয় রানার আপ (তৃতীয় স্থান অধিকারী) হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম।
বিগত আসরগুলোর সাথে এবারের আয়োজনে একটি বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার বিজয়ীর মাথায় রাজমুকুটের বদলে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সুদৃশ্য স্মারক বা ট্রফি। তবে পুরস্কার হিসেবে বিদুষী বর্ণিতার জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশাল সুযোগ। তিনি দেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফির নতুন একটি চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছেন। অর্থাৎ, লাক্স সুপারস্টারের হাত ধরে সরাসরি ঢালিউডের রূপালি পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে এই নতুনের।
এবারের গ্র্যান্ড ফিনালের (চূড়ান্ত পর্ব) পুরো অনুষ্ঠানটি মাতিয়ে রেখেছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম এবং দুই বাংলার পরিচিত মুখ আরিফিন শুভ। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে যোগ করেছিল ভিন্ন মাত্রা।
প্রতিযোগিতার মূল বিচারকের আসনে ছিলেন গুণী নির্মাতা রায়হান রাফি এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও জয়া আহসান। বিচারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা রূপকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিযোগীদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধি, অভিনয় দক্ষতা, সাবলীল ব্যক্তিত্ব এবং আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সৃজনশীল আধেয় বা কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও কঠিন সব ধাপ পেরিয়ে তবেই এই তিন প্রতিযোগী নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও গ্ল্যামারের মিশেলে আয়োজিত এই সন্ধ্যাটি ছিল যেমন বর্ণিল, তেমনি প্রতিযোগীদের জন্য ছিল আবেগঘন। দীর্ঘ বিরতির পর লাক্স সুপারস্টার ফিরে আসায় বিনোদন অঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লাক্স সুপারস্টারের মতো একটি বড় মঞ্চ থেকে উঠে আসা নতুন মুখগুলোই আগামী দিনে আমাদের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনকে নেতৃত্ব দেবে। বিদুষী বর্ণিতার এই বিজয় কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি মফস্বল থেকে আসা হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তবে মুকুটের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো বড় পর্দায় নিজেকে প্রমাণ করা। রায়হান রাফির চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগটি বর্ণিতা কতটা কাজে লাগাতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।