ভারতের চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ রাশমিকা মানদানা। পর্দায় তার চপল অভিনয় আর মোহনীয় হাসিতে কুপোকাত অগণিত অনুরাগী। তবে শুধু অভিনয় নয়, তার উজ্জ্বল ত্বক আর মেদহীন শরীরের রহস্য জানতে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজেকে সুস্থ রাখতে তিনি কোনো কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন করেন না, বরং পরিমিত ও সুষম খাবারের ওপরই তার অগাধ ভরসা।
দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউড—সর্বত্রই এখন রাশমিকা মানদানার জয়জয়কার। ভক্তরা ভালোবেসে তাকে 'জাতীয় ক্রাশ' (দেশের অগণিত তরুণের হৃদস্পন্দন) বলে ডাকেন। ব্যস্ততম এই নায়িকার দিনলিপি শুটিং আর প্রচারণার চাপে ঠাসা থাকলেও নিজের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে তিনি কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। তবে তার এই ফিটনেস বা শারীরিক গড়ন কোনো জাদুর ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ফসল। রাশমিকা বিশ্বাস করেন, শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্টি দিলে তার প্রতিফলন বাইরে ফুটে ওঠে।
ভোরবেলা ও দিনের শুরু:
রাশমিকার দিন শুরু হয় এক অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে। ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি প্রথমেই প্রায় এক লিটার সাধারণ পানি পান করেন। এরপর তিনি পান করেন আপেল সিডার ভিনেগার (আপেল থেকে তৈরি এক বিশেষ ধরনের টক পানীয়)। অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, প্রতিদিন এই অভ্যাসটি ধরে রাখা বেশ কষ্টকর, কিন্তু শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে এবং হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই ধারা বজায় রেখে চলেছেন।
খাদ্যতালিকায় ডিমের গুরুত্ব:
বর্তমানে রাশমিকা এক বিশেষ ধরনের আহাররীতি অনুসরণ করছেন যেখানে আমিষের প্রধান উৎস হিসেবে ডিমকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রতিদিনের শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের পর তিনি নিয়মিত ডিম খান। ডিমকে বলা হয় পুষ্টির ভাণ্ডার। এটি কেবল শরীরে আমিষের ঘাটতিই মেটায় না, বরং এতে থাকা খাদ্যপ্রাণ-ডি (ভিটামিন ডি) এবং সেলেনিয়াম (এক প্রকার প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান) হাড় ও মাংসপেশিকে মজবুত রাখে। রাশমিকা জানান, তার উজ্জ্বল চুল ও মসৃণ ত্বকের পেছনেও এই ডিমের বড় ভূমিকা রয়েছে।
দুপুরের খাবার ও দক্ষিণী টান:
এক সময় রাশমিকা বিদেশি ফল অ্যাভোকাডো দিয়ে তৈরি রুটি বা টোস্ট খেতে খুব পছন্দ করতেন। তবে বর্তমানে তিনি একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের খাদ্যতালিকা সাজিয়েছেন। দুপুরের খাবারে তিনি পাশ্চাত্য খাবার এড়িয়ে পুরোপুরি নিজ অঞ্চলের অর্থাৎ দক্ষিণ ভারতীয় খাবার পছন্দ করেন। একঘেয়েমি কাটাতে তিনি প্রতিদিন ভাত খান না, বরং ভাতের বদলে বিভিন্ন ধরনের টাটকা ও ঋতুভেদে পাওয়া সবজির তরকারি দিয়ে দুপুরের আহার সম্পন্ন করেন। এতে করে শরীর সব ধরণের প্রয়োজনীয় উপাদান পায় এবং হজমেও সুবিধা হয়।
রাতের হালকা আহার:
রাতের খাবারের ক্ষেত্রে রাশমিকার মূল মন্ত্র হলো 'সহজ ও হালকা'। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করেন। সাধারণত খুব সাধারণ ও সহজে হজম হয় এমন খাবারই তার রাতের তালিকায় থাকে। তবে মাঝে মাঝে যখন বন্ধুদের সাথে সময় কাটান বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যান, তখন এই নিয়মের কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে। সে সময় প্রিয় খাবারগুলো উপভোগ করতে দ্বিধা করেন না তিনি।
দুর্বলতা ও কিছু সতর্কতা:
সবকিছু নিয়ম মেনে চললেও মিষ্টির প্রতি রাশমিকার দুর্বলতা প্রবল। তিনি মজা করে বলেন, হাজার চেষ্টা করেও তিনি মিষ্টি খাওয়ার লোভ সামলাতে পারেন না। এছাড়া তার শরীরে কিছু নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা বা এলার্জি রয়েছে। যেমন— টমেটো, আলু, শসা এবং ক্যাপসিকাম জাতীয় সবজি তিনি এড়িয়ে চলেন। তবে তিনি মিষ্টি আলু খেতে ভীষণ ভালোবাসেন, যা তার খাদ্যতালিকায় নিয়মিত স্থান পায়।
রাশমিকা মানদানার এই জীবনদর্শন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সুন্দর হওয়া মানেই অভুক্ত থাকা বা শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়। বরং নিজের শরীরের প্রকৃতি বুঝে সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করাই হলো সুস্থতার চাবিকাঠি। আজকের যুগে যেখানে কৃত্রিম উপায়ে ওজন কমানোর হিড়িক পড়েছে, সেখানে রাশমিকার মতো একজন তারকার সুষম আহার ও প্রাকৃতিক অভ্যাসের কথা বলা নিশ্চিতভাবেই সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। সৌন্দর্য কেবল বাইরে নয়, বরং সুস্থতার ভেতরেই নিহিত থাকে—রাশমিকা যেন সেই বার্তারই জীবন্ত উদাহরণ।