Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির সাজা, রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় পরিবার

BNJK
29 August 2026, 02:03 AM পড়তে ১ মিনিট
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির সাজা, রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় পরিবার

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ৩০ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হলেও এই রায়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে সাঈদের শোকাতুর পরিবার।

 বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রাণদণ্ড (মৃত্যুদণ্ড), তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড (যাবজ্জীবন) এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন—রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। এছাড়া পুলিশের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ ১১ জনকে তিন বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং সাতজনকে দশ বছর মেয়াদি সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামির হাজতবাসের সময়কেই তার সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন আদালত।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী ও আবু হোসেন জানান, তারা এই রায়ে আংশিক সন্তুষ্ট হলেও পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার মাত্র ১০ বছরের সাজা হয়েছে, যা অপরাধের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। সাঈদের পরিবার মনে করে, সরাসরি উসকানি ও হামলায় জড়িত পোমেলেরও ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। তারা সাজা বাড়ানোর দাবিতে উচ্চতর আদালতে আপিল (নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন) করার কথা ভাবছেন।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "ছেলের হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে, কিন্তু এই রায় দ্রুত কার্যকর হতে হবে। খুনিদের শাস্তি কার্যকর হলেই কেবল আমার বাছার আত্মা শান্তি পাবে।"

অন্যদিকে, প্রধান কৌঁসুলি (চিফ প্রসিকিউটর) আমিনুল ইসলাম জানান, কোনো আসামিই খালাস না পাওয়ায় তারা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে কারও সাজা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিপরীত দিকে, বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে বুক পেতে দিয়ে অকুতোভয় বীরের মতো শহীদ হন আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে সাঈদের দাঁড়িয়ে থাকার এবং পুলিশের বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়ার সেই ভিডিও সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই রক্তঝরা দিনটিই শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।

 আবু সাঈদ হত্যার এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে পরিবারের অসন্তুষ্টি এবং সাজা নিয়ে তর্কের বিষয়টি নির্দেশ করে যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচারের মানদণ্ড এখনো অনেক উঁচুতে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্যাডার বাহিনীর লঘু দণ্ড নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাঈদের আত্মত্যাগ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তার পূর্ণতা পাবে তখনই যখন প্রতিটি অপরাধী তাদের অপরাধের ভার অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি পাবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির সাজা, রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় পরিবার

B
BNJK | 09 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার