রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের জরুরি কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুরু করে পরবর্তী দিন শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা এই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
পাইপলাইন পরিবর্তনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণে আশুলিয়া টিবিএস (গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র) থেকে বাইপাইল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের সকল এলাকা, ঢাকা ইপিজেড, মালঞ্চ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বেক্সিমকো শিল্প এলাকা এবং কাশিমপুর ও সারদাগঞ্জ এলাকায় কোনো গ্যাস থাকবে না।
এছাড়াও সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
নবীনগর, সাভার শহর এলাকা এবং সাভার সেনানিবাস।
শ্রীপুর, চন্দ্রা, উলাইল, ব্যাংক টাউন ও সাভার রেডিও কলোনি।
কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান, চারাবাগ ও বড় আশুলিয়া।
জিরাবো, গাজীরচট, নয়াপাড়া, দেওয়ান ইদ্রিস সড়কের উভয় পাশ এবং নয়ারহাট।
বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, ডেন্ডাবর, ভাদাইল ও লতিফপুরসহ সংলগ্ন এলাকা।
গ্রাহকদের দুর্ভোগ ও বিকল্প ব্যবস্থা
গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল এলাকাগুলোতে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকার পাশাপাশি এর আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। অর্থাৎ রান্নার কাজ বা কলকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জরুরি এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হবে বিধায় তিতাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এলাকাবাসীকে আগেভাগেই বিকল্প জ্বালানি বা রান্নার ব্যবস্থা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল হওয়ায় অনেক পোশাক কারখানার উৎপাদন ও বয়লার কার্যক্রম এই সময়ে সীমিত বা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে পাইপলাইন স্থানান্তর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও ২৪ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিরতি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সাভার ও আশুলিয়ার মতো শিল্পপ্রধান এলাকায় এক দিন গ্যাস না থাকা মানে বিপুল আর্থিক ক্ষতি। এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো সংযোগের মাধ্যমে জরুরি সরবরাহ সচল রাখার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের দেশে এখনও সীমিত। ভবিষ্যতে বৃহৎ উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনায় জনদুর্ভোগ কমাতে বিকল্প সরবরাহ লাইন আগে থেকে নিশ্চিত করা জরুরি।