ভারতীয় সংগীতের সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে যখন গোটা শোবিজ অঙ্গন শোকাতুর, ঠিক তখনই এক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মুম্বাইয়ের শিভাজি পার্কে সম্পন্ন হওয়া এই কিংবদন্তির শেষকৃত্যে বলিউড মেগাস্টার সালমান খান ও শাহরুখ খানের অনুপস্থিতি নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
গত ১২ এপ্রিল ভারতীয় সংগীত জগতের এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্রের পতন ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল (মাল্টি অর্গ্যান ফেইলিওর) হয়ে যাওয়ার কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। তার বিদায়ে ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা অপূরণীয়। মঙ্গলবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুম্বাইয়ের শিভাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মহারাষ্ট্র পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয় গান স্যালুট (তোপধ্বনি বা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা)। বিনোদন জগতের অসংখ্য গুণীজন উপস্থিত থাকলেও সবার নজর কাড়ে দুই বড় তারকা সালমান খান ও শাহরুখ খানের অনুপস্থিতি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শেষকৃত্যের সময় দুই সুপারস্টারই মুম্বাইয়ে নিজ নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। তবুও কেন তারা প্রিয় দিদিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শ্মশানে উপস্থিত হলেন না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিভাজি পার্কে এমনিতেই সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল, তার ওপর দুই তারকার উপস্থিতি জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত বলেই হয়তো তারা ভিড় এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এ বিষয়ে দুই তারকার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও ডিজিটাল দুনিয়ায় এই কিংবদন্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা। শাহরুখ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় লিখেছেন, “আশা ভোঁসলের কণ্ঠ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক অবিনশ্বর স্তম্ভ হয়ে থাকবে।” অন্যদিকে সালমান খান তার শোকবার্তায় একে ভারতীয় সংগীতের জন্য এক ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, আশা ভোঁসলে কেবল একজন গায়িকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কয়েক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তার কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকত গোটা উপমহাদেশ। শেষ বিদায়ে দুই খানের সশরীরে উপস্থিত না হওয়াটা অনেক ভক্তের মনে ক্ষোভের জন্ম দিলেও, নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একজন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ভাষা কেবল সশরীরে উপস্থিত হওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তবে আশা ভোঁসলের মতো একজন মহীরুহের বিদায়ে সালমান ও শাহরুখের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কি শেষ মুহূর্তের এই বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া যায়? নাকি প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টই যথেষ্ট? শিল্পীর কদর কেবল পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও কতটা গভীরে, তা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।