রুপালি পর্দায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে ‘ধুরন্ধর ২’। মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বিশ্বব্যাপী আয়ের হাজার কোটির ঘর পেরিয়ে এবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে এই মারপিটধর্মী চলচ্চিত্রটি। দর্শকদের উন্মাদনা আর অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্যে সিনেমাটি এখন টিনসেল টাউনের (চলচ্চিত্র পাড়া) আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
চলচ্চিত্রের খাতা বা বক্স অফিসে দাপট বজায় রেখে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে ‘ধুরন্ধর ২’। গত কয়েক বছরের খরা কাটিয়ে এই সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সর্বশেষ পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৯৫৯ কোটি ৩৭ লাখ রুপি। অন্যদিকে, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে এই চলচ্চিত্রের মোট আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৫৮ লাখ রুপি ছাড়িয়ে গেছে।
সিনেমাটি মুক্তির মাত্র সাত দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী এক হাজার কোটির অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এখন সব নজর ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের দিকে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মাটিতে হাজার কোটির মাইলফলক স্পর্শ করতে সিনেমাটির আর মাত্র প্রায় ৪০ কোটি রুপি প্রয়োজন। চলতি সপ্তাহান্তেই (শনি ও রোববার) এই লক্ষ্য পূরণ হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে অগ্রিম টিকেটের যে চাহিদা দেখা যাচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে টিম ‘ধুরন্ধর ২’ খুব শীঘ্রই এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদ্যাপন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অন্যতম ব্যবসা সফল সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর পরবর্তী কিস্তি হিসেবে নির্মিত হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। প্রথম পর্বে দর্শকরা দেখেছিলেন লিরারির বালুচ দস্যুদলে হামজার অনুপ্রবেশের শ্বাসরুদ্ধকর গল্প। তবে দ্বিতীয় পর্বে পরিচালক অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন একজন সাধারণ যুবক ‘জসকিরত’ কীভাবে পরিস্থিতির চাপে পড়ে হিংস্র ‘হামজা’য় রূপান্তরিত হন। এই চারিত্রিক বিবর্তন আর গল্পের গভীরতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
চলচ্চিত্রটিতে রণবীর সিংয়ের সাথে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন নামী সব অভিনয়শিল্পী। আর মাধবন, অর্জুন রামপাল এবং সঞ্জয় দত্তের মতো পোড় খাওয়া অভিনেতাদের উপস্থিতি পর্দায় আলাদা গাম্ভীর্য তৈরি করেছে। সেই সাথে সারা অর্জুনের অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ঋষভ শেঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ বা ধুরন্ধর: প্রতিশোধ-এর প্রথম দৃশ্য থেকেই আপনি পর্দার সাথে আটকে যাবেন। প্রতিটি ফ্রেম যেন যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যাচ্ছে! এটি কেবল একটি পরবর্তী কিস্তি নয়, এটি চলচ্চিত্রের সংজ্ঞাকে নতুন করে তুলে ধরা।’ তিনি কেবল অভিনয়েরই নয়, সিনেমার আবহ সংগীত এবং সম্পাদনার সূক্ষ্ম কাজেরও প্রশংসা করেছেন।
সিনেমার পেছনে থাকা কিছু চমকপ্রদ তথ্যও উঠে এসেছে সম্প্রতি। ছবির অভিনয়শিল্পী নির্বাচন সমন্বয়কারী (কাস্টিং ডিরেক্টর) জানিয়েছেন, আলোচিত ‘রহমান ডাকাত’ চরিত্রটির জন্য প্রথমে বলিউডের দুই জন এবং দক্ষিণী চলচ্চিত্রের এক জন বড় তারকাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নেতিবাচক চরিত্র হওয়ায় তারা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীকালে চরিত্রটিকে ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন করে সাজানো হয়, যা বর্তমানে সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় তারকাদের ফিরিয়ে দেওয়া সেই চরিত্রটিই এখন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হাততালির মূল কারণ।
সিনেমাটির এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করে যে, দর্শক এখন ভালো গল্প আর মানসম্পন্ন নির্মাণের কদর করতে জানে। বিশেষ করে বড় পর্দার জৌলুস আর কুশলীদের কঠোর পরিশ্রম বৃথা যায়নি। সপ্তাহান্তের শেষ নাগাদ ভারতের বাজারে এক হাজার কোটির রেকর্ডটি হলে নাম লেখাতে পারে কি না, এখন সেই উত্তেজনায় দিন গুনছেন ভক্তরা।
‘ধুরন্ধর ২’-এর এই অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্য দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমত্তারই জানান দিচ্ছে। বড় তারকাদের প্রত্যাখ্যান করা চরিত্র যখন সিনেমার প্রাণ হয়ে ওঠে, তখন তা অভিনেতা ও নির্মাতাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। এটি প্রমাণ করে যে, কোনো চরিত্র ছোট নয়, বরং তাকে ফুটিয়ে তোলার ধরনই আসল। তবে হাজার কোটির এই বিশাল অঙ্ক কি কেবল বাণিজ্যিক জয়, নাকি সৃজনশীলতার সার্থকতা—সে প্রশ্নটি দর্শকদের ভাবনার খোরাক দেবে। চলচ্চিত্রের এই আকাশচুম্বী আয় কি আগামীর নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে নাকি কেবল বড় বাজেটের অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে, তা দেখার বিষয়।