বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এর ২০২৬ সালের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বলিউড তারকা রণবীর কাপুর। তালিকায় একমাত্র ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি যেমন বিনোদন জগতে সাড়া ফেলেছে, তেমনি বিশ্বনেতাদের কাতারে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বজুড়ে সমাদৃত যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক সাময়িকী ‘টাইম’ বুধবার (১৫ এপ্রিল) তাদের বার্ষিক মর্যাদাপূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজনীতি, বিনোদন, রন্ধনশৈলী এবং বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের এই তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। বিনোদন জগতের অন্যতম শীর্ষ তারকা রণবীর কাপুর এই তালিকায় ‘শিল্পী’ বিভাগে জায়গা করে নিয়েছেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবারের তালিকায় রণবীর কাপুর ছাড়াও ভারত থেকে জায়গা পেয়েছেন প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী (শেফ) বিকাশ খান্না। রন্ধনশিল্পে তাঁর সৃজনশীল এবং দূরদর্শী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, এবারের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উপায়ে বিশ্ব সংস্কৃতি পরিবর্তনে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।
২০২৬ সালের এই তালিকায় বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের জয়জয়কার দেখা গেছে। তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, পোপ লিও চতুর্দশ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তালিকায় আরও রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম, যিনি এই বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। ২০২৬ সালের আলোচিত মহাকাশ অভিযান ‘আর্টেমিস দুই’-এর সর্বাধিনায়ক (কমান্ডার) রিড ওয়াইজম্যানের নাম তালিকায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। মূলত যারা বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতি ও জনমত গঠনে বড় ধরণের প্রভাব রাখছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই এই ১০০ জনকে বাছাই করা হয়েছে।
টাইমের এই তালিকাটি কেবল জনপ্রিয়তার মাপকাঠি নয়, বরং এটি সমসাময়িক বিশ্বে কার প্রভাব কতখানি তার একটি চিত্র তুলে ধরে। রণবীর কাপুরের মতো একজন অভিনেতার বিশ্বমঞ্চে এই স্বীকৃতি যেমন তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন, তেমনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দেশের গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করে। এই ধরণের স্বীকৃতি বিশ্ববাসীর কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়।