গাজীপুরের মাটি ও মানুষের নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য আহসানুল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল শুনানি আবারও পিছিয়ে গেছে। আগামী ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই শুনানির নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতের শুনানির জন্য কার্যতালিকায় (শুনানির জন্য নির্ধারিত তালিকা) অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকতে না পারায় আদালত শুনানির সময় পরিবর্তন করে আগামী ২৮ এপ্রিল পুনর্নির্ধারণ করেন। দেশের আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আহসানুল্লাহ মাস্টারকে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। বিচারপতি উবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) ও আপিল শুনানি শেষে ১১ জন আসামিকে খালাস দিয়েছিলেন। সেই একই রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ মোট ৬ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ৮ জন আসামির সাজাও বহাল রাখেন উচ্চ আদালত।
ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি জনসভা চলাকালে সন্ত্রাসীরা জননেতা আহসানুল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরদিন তাঁর ছোট ভাই বাদী হয়ে টঙ্গী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের দুই দশক পার হতে চললেও এখনো চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন নিহতের পরিবার ও গাজীপুরবাসী। ২৮ এপ্রিলের শুনানিতে মামলার পরবর্তী গতিপথ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই সবার নজর।
একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্য দিবালোকে জনসভায় হত্যার ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। আইনি জটিলতায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নটি বারবার সামনে চলে আসে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত হওয়া কেবল একটি পরিবারের দাবি নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। ২৮ এপ্রিলের শুনানি যেন চূড়ান্ত বিচারের পথে একটি ফলপ্রসূ পদক্ষেপ হয়, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।