বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার বৃত্তির সুযোগ আরও বৃদ্ধি করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। দুই দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দফতরে ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার জেমস গোল্ডম্যান এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে ব্রিটিশ কাউন্সিল যে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে, তা দেশের জনশক্তিকে বিশ্ববাজারে দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করছে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বৃত্তির সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কার ও উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস-এর দলীয় প্রধান (টিম লিডার) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, ব্রিটিশ কাউন্সিলের এদেশীয় পরিচালক (কান্ট্রি ডিরেক্টর) স্টিফেন ফোর্বস এবং ইংরেজি ও বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপ্তি দাসসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় দুই দেশের শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধার প্রশংসা করে জানান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে যুক্তরাজ্য সরকার।
আন্তর্জাতিক শ্রম ও মেধার বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া অপরিহার্য। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশের বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি পেলে কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়নই হবে না, বরং তাদের অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।