চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় নবগঠিত 'ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা'র প্রশাসনিক সদর দপ্তর বা কার্যালয় ভৌগোলিক দিক থেকে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই হরতাল কর্মসূচি চলছে। ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’ নামের একটি স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের ব্যানারে এই হরতাল ডাকা হয়েছে।
হরতাল কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফটিকছড়ি-হেয়াঁকো সড়কে সব ধরনের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীরা সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কাঠের গুঁড়ি ফেলে এবং বড় বড় মালবাহী ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে হরতাল সর্বাত্মকভাবে পালিত হচ্ছে। এ ছাড়া নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ওষুধের দোকান (ফার্মেসি), চিকিৎসালয় (ক্লিনিক) ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি সেবার গাড়ি, বিদেশগামী যাত্রী এবং শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহনগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। হরতালকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। আন্দোলনকারীরা হেয়াঁকো বাজারে একত্রিত হয়ে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, "আমরা এলাকার অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছি। উত্তর উপজেলার সাধারণ মানুষ আমাদের এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন। অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।"
ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলকে একটি পৃথক উপজেলা করার দাবি দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে এই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। গণশুনানি শেষে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশমালা পাঠান। সেই প্রতিবেদনে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থান জুজখোলা মৌজায় উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সদর দপ্তরটি ভূজপুরে নির্ধারণ করা হলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল—এই ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা। আন্দোলনকারীদের দাবি, সদর দপ্তরটি যেন সব ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয় যাতে সব এলাকার মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পান।