শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে বীরের দেশ যশোরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৭ এপ্রিল এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাটিতে বইছে উৎসবের আমেজ, যেখানে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ সূচনা করবেন সরকারপ্রধান।
পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক উলাশী খালটি পুনরায় সচল করার দাবি ছিল যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের। সেই গণদাবি পূরণে আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে এক জনগুরুত্বপূর্ণ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধানমন্ত্রীর এই চূড়ান্ত সফরসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঐতিহাসিক এই উলাশী খালটির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল পটভূমি। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে ঝুড়ি-কোদাল হাতে মাটি কেটে এই খালের খনন কাজের শুভ সূচনা করেছিলেন। শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগস্থল থেকে শুরু হওয়া প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি সে সময় কৃষি বিপ্লবে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। স্থানীয়দের কাছে এটি আজও ‘জিয়া খাল’ নামেই সমধিক পরিচিত। ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল এই খালের খনন কাজ শেষ হওয়ার পর জিয়াউর রহমান এটি উদ্বোধন করেন, যা পরবর্তীতে সারা দেশে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির একটি সফল মডেলে পরিণত হয়।
গত কয়েক দশকে সংস্কারের অভাবে খালটি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। শুষ্ক মৌসুমে এটি পানিশূন্য হয়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছিল স্থানীয় কৃষি উৎপাদন। গত ২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে যশোরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে উলাশী খালসহ সারা দেশের অবহেলিত জলাশয় ও খালগুলো পুনঃখনন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবেই তিনি এই মহতী উদ্যোগের উদ্বোধন করতে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল খাল খননেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যশোরবাসীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া জেলার আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
উলাশী খালের পুনঃখনন কেবল একটি কারিগরি প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ যদি সারা দেশে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট দূর করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের এই মেলবন্ধন নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কতটা ত্বরান্বিত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।