আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার সব কেন্দ্রকে শতভাগ নকলমুক্ত রাখা হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (২৮ জুন) সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষা প্রস্তুতি মূল্যায়নে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রপ্রধানদের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
পরীক্ষার পবিত্রতা ও মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের মেধার সঠিক এবং প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ শতভাগ নকলমুক্ত, শান্ত ও বাইরের যেকোনো প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। কেন্দ্রপ্রধানদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেউ কোনো ধরনের অবহেলা বা ফাঁকফোকর রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে পরীক্ষাকেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি থাকবে। কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে প্রতারণার চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকার এবং কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতের অন্যান্য সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা খাতে আইনি জটিলতা এবং বিভিন্ন মামলাজটের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাদানের গতি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই ধরনের অচলাবস্থা দূর করে শিক্ষাঙ্গনে একটি স্বচ্ছ, গতিশীল এবং জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি, আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও পরিবহন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। শিক্ষাবর্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক (জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত) পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন উপস্থিত কর্মকর্তারা।