বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের সুরক্ষায় টিকা (ভ্যাকসিন) কেনা বাবদ সরকারের মোট ব্যয়ের হিসাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, টিকা কেনা খাতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দশম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে শুরু করে টিকা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম আমদানির জন্য মোট ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করেছিল। এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ থেকে টিকা কেনা বাবদ এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
টিকা কার্যক্রমের অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিশদ বিবরণ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কেবল টিকা দিলেই হয় না, এর জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ কেনা বাবদ খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া দেশের দুর্গম অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রান্তে টিকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহন খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। পাশাপাশি সিরিঞ্জ জাহাজীকরণ ও অন্যান্য মাশুল (শিপিং চার্জ) হিসেবে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে টিকা আমদানিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, টিকা ক্রয় ও তা সংরক্ষণের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য পৌঁছায়নি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় যেকোনো কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। যদি ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই দেশ খুব দ্রুত একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে টিকা প্রদানের এই কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের বড় পরীক্ষা হলো সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা। করোনা টিকাদানে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার পেছনে বিশাল এক অংকের রাষ্ট্রীয় ব্যয় জড়িত। তবে বিশাল এই ব্যয়ের সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা জনগণের আমানত রক্ষার শামিল। সংসদে মন্ত্রীর এই হিসাব প্রদান গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দিক। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়েও যেন এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রতিটি পয়সার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়।