বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি কৃষি ও শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের কৃষি, বনায়ন এবং শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন। বিশেষ করে বাংলাদেশের কৃষিখাতে চীনের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির (যেমন উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং স্বয়ংক্রিয় চাষাবাদ পদ্ধতি) প্রয়োগ ঘটিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণে চীনের বনায়ন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।
শিক্ষা খাতের প্রসারে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, দক্ষ জনশক্তি গড়তে চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। তিনি এসব খাতে চীনের আরও সক্রিয় এবং জোরালো অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন।
জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, কৃষি ও শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতেও চীনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা (কাউন্সিলর) লি শাওপেং এবং দ্বিতীয় সচিব হুয়াং মৌছং উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দুই পক্ষই ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
কৃষি ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন একটি জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার পূর্বশর্ত। চীনের মতো একটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশের সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সহযোগিতার সুফল যেন সাধারণ কৃষক এবং শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। বৈদেশিক প্রযুক্তির সঙ্গে দেশীয় শ্রমের সঠিক সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশ সত্যিই কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে।