বৈশাখের তপ্ত দুপুরের পর ধেয়ে আসা আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গাইবান্ধার জনজীবন। রোববার বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় এক শিশুসহ চারজন করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
গাইবান্ধা জেলায় রোববার বিকেলে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং সেই সাথে শুরু হয় তীব্র বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে প্রাণ হারিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের তিন তরুণ ও এক শিশু এবং সাঘাটা উপজেলার এক বৃদ্ধ। প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে যখন ঝড়ো হাওয়া বইছিল, তখন সুন্দরগঞ্জের তিন তরুণ ও এক শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। এই ঘটনায় শামীম (১৮) নামের আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বজ্রপাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তাদের কাছে থাকা একটি গবাদি পশুও (গরু) ঘটনাস্থলে মারা যায়।
অন্যদিকে, সাঘাটা উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় নম্বর আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবারে এখন মাতম চলছে। আহত শামীমকে সুচিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বজ্রপাতের হার ও তীব্রতা বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে খোলা মাঠে বা গাছের নিচে থাকা মানুষেরা এই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হচ্ছে। রোববারের এই ঝড়ো আবহাওয়ায় গাইবান্ধার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জসহ দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
প্রকৃতির এই ভয়াবহতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা কতটা জরুরি। বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। মেঘ ডাকলে বা ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে খোলা জায়গায় না থেকে পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকা জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে। গাইবান্ধার এই চারজনের অকাল মৃত্যু আমাদের গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।