টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রেললাইন সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বিশেষ ট্রেন ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। মঙ্গলবার দুপুরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন মুরাদপুর এলাকায় লাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় ট্রেনটি আটকা পড়ে। আকস্মিক এই ঘটনায় ট্রেনটিতে থাকা প্রায় এক হাজার পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় পর্যটক এক্সপ্রেস। ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করে কিছু দূর এগোতেই লাইনের ওপর থৈ থৈ পানি দেখতে পায়। সংলগ্ন খালের পানি উপচে রেললাইনের ওপর চলে আসায় চালক ট্রেনটি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। দুপুর পৌনে ১টা থেকে ট্রেনটি মুরাদপুর এলাকায় লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটির কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু লাইনে পানি উঠে যাওয়ায় সেই সূচি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ওলটপালট হয়ে যায়।
কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রী ও পর্যটকদের দীর্ঘ সময় ট্রেনের বগির ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। ট্রেনের ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে অনেক শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেকেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং যাত্রীদের সাময়িক স্বস্তি ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ট্রেনটি কিছুটা পেছনের দিকে নিয়ে এসে পুনরায় ষোলশহর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা জানান, অতি বর্ষণের ফলে ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকার রেললাইন সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রেললাইন দৃশ্যমান না হওয়া এবং সিগন্যাল (সংকেত ব্যবস্থা) ব্যবস্থা জলমগ্ন থাকায় ট্রেন চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদের বড় ধরণের কোনো ক্ষতি এড়াতে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মের সুবিধা দিতেই ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রেললাইন থেকে পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত ট্রেনটি আর কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারবে না।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর (বর্ষাকালের হাওয়া) প্রভাবে চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। নিচু এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রেললাইনের ওপর বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনের পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পর রেললাইনের পাথর ও মাটির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করা হবে। লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল আটকা পড়া ট্রেনটি আবার ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।