টানা অতি ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানির যৌথ আঘাতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট বন্দরনগরীতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর আর কখনো এক দিনে এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত দেখেনি চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলमগ্ন হয়ে পড়েছে।
প্রবল এই বর্ষণের সাথে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়। বিশেষ করে চকবাজার, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ, শুলকবহর, বহদ্দারহাট ও মুরাদপুর এলাকার সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্তত তিনটি প্রধান সড়কে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অনেক স্থানে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও কাঁচাবাজারে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবীরা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
ভারী বৃষ্টির কারণে গণপরিবহন সংকটে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় এবং রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেককে বাধ্য হয়ে জলমগ্ন সড়ক দিয়েই হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যবর্তী রেললাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ (বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন) রেললাইন ডুবে যাওয়ার কারণে মাঝপথে আটকা পড়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, লাইনের উপর জমে থাকা পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ধীরগতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর (বর্ষাকালের হাওয়া) প্রভাবে এই অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অতি বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।